Home / এক্সক্লুসিভ / সকালে খালি পেটে খেজুর খাওয়ার ১৩টি উপকারিতা

সকালে খালি পেটে খেজুর খাওয়ার ১৩টি উপকারিতা

আমর’া অনেকেই জানি খেজুর খাওয়া সুন্নত, আবার এই একটি সুন্নতের পেছনেও আছে অনেক উপকারিতা আর এই সম্পর্কে আমর’া অনেকেই হয়তো জানি না।

রোজা শেষে শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিনেরও জোগান দেওয়া ও ক্লান্তি দূর করার জন্য খেজুরের গু’রুত্ব অ’পরিসীম। সকালে খালি পেটে খেজুর খেলে যে উপকারগু’লো হয় তা জেনে নিন……

খেজুরে আছে প্রচুর শক্তি, এমিনো এ’সিড, শর্করা ভিটামিন ও মিনারেল। প্রতিদিন রোজায় আমা’দেরকে দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকতে হয় যার কারণে আমা’দের দে’হে প্রচুর গ্লুকোজের ঘাটতি দেখা দেয়। তখন এই খেজুর আমা’দের শরীরে প্রয়োজনীয় গ্লুকোজের ঘাটতি যোগান দিতে সাহায্য করে। চলুন এক নজরে দেখে নেওয়া যাক খেজুরের পুষ্টিগু’ণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা-

কোলেস্টেরল এবং ফ্যাট – খেজুরে কোন কোলেস্টেরল এবং বাড়তি পরিমাণে চর্বি থাকে না। যার ফলে আপনি যখন সহজেই খেজুর খাওয়া শুরু করবেন তখন অন্যান্য ক্ষ’তিকর ও চর্বি জাতীয় খাবার থেকে দূরে থাকতে পারবেন।

প্রোটিন – আমা’দের শরীরের জন্য প্রোটিন অত্যাব’শ্যকীয় একটি প্রয়োজনীয় উপাদান। খেজুর হল প্রোটিন সমৃ’দ্ধ। ফলে আমা’দের পেশী গঠন করতে সহায়তা করে এবং শরীরের জন্য খুব অ’পরিহার্য প্রোটিন সরবরাহ করে।

ভিটামিন – খেজুরে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন যা আমা’দের শরীরের জন্য অত্যাব’শ্যক। যেমন, বি১, বি২, বি৩ এবং বি৫। এছাড়াও ভিটামিন এ১ এবং সি ভিটামিন পাওয়ার আরও একটি সহজ মাধ্যম হচ্ছে খেজুর। সেই সাথে খেজুরে দৃষ্টি শক্তি বাড়ায়। সেই স’ঙ্গে রাতকানা রোগ প্রতিরোধেও খেজুর অত্যন্ত কার্যকর।

আয়রন – আয়রন মানব দে’হের জন্য একটি গু’রুত্বপূর্ণ উপাদান। খেজুর প্রচুর আয়রন রয়েছে। ফলে এটা হৃৎপিণ্ডের কার্যক্ষমতা বাড়ায়। তাই যাদের দুর্বল হৃৎপিণ্ড, তাদের জন্য খেজুর ‘হতে পারে সবচেয়ে নিরাপদ ওষধ।

ক্যালসিয়াম – ক্যালসিয়াম হাড় গঠনে সহায়ক। আর খেজুরে আছে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম। যা হাড়কে মজবুত করে। খেজুর শিশুদের মাড়ি শক্ত করতে সাহায্য করে।

ক্যানসার প্রতিরোধ – খেজুর পুষ্টিগু’ণে সমৃ’দ্ধ এবং প্রাকৃতিক আঁশে পূর্ণ। এক গবেষণায় দেখা যায়, খেজুর পেটের ক্যানসার প্রতিরোধ করে। আর যারা নিয়মিত খেজুর খান তাদের বেলায় ক্যানসারে ঝুঁকিটাও কম থাকে। খুব সম্প্রতি একটি গবেষণায় উঠে এসেছে যে খেজুর Abdominal ক্যান্সার রোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করে এবং অবাক করা বি’ষয় হচ্ছে এটি অনেক সময় ওষুধের চেয়েও ভাল কাজ করে।

ওজন হ্’রাস – মাত্র কয়েকটা খেজুর কমিয়ে দেয় ক্ষুধার জ্বা’লা। এবং পাকস্থলীকে কম খাবার গ্রহণে উদ্বু’দ্ধ করে। এই কয়েকটা খেজুরই কিন্তু শরীরের প্রয়োজনীয় শর্করার ঘাটতি পূরণ করে দেয়।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে: খেজুরে আছে এমন সব পুষ্টিগু’ণ। যা খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে। এবং কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ করে। কখনও কখনও ডায়রিয়ার জন্যেও এটা অনেক উপকারী।

সংক্রমণ – যকৃতের সংক্রমণে খেজুর উপকারী। এছাড়া গলা ব্যথা, বিভিন্ন ধরনের জ্বর, সর্দি, এবং ঠাণ্ডায় খেজুর উপকারী। খেজুর অ্যালকোহল জনিত বি’ষক্রিয়ায় বেশ উপকারী। ভেজানো খেজুর খেলে বি’ষক্রিয়ায় দ্রুত কাজ করে।

র’ক্তশূন্যতা প্রতিরোধ – প্রচুর মিনারেল স’ঙ্গে আয়রন থাকার কারণে খেজুর র’ক্তশূন্যতা রোধ করে। তাই যাদের হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কম তারা নিয়মিত খেজুর খেয়ে দেখতে পারেন।

কর্মশক্তি বাড়ায় – খেজুরে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক চিনি থাকার কারণে খেজুর খুব দ্রুত শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। সারাদিন রোজা রাখার পর রোজাদাররা যদি মাত্র ২টি খেজুর খান তবে খুব দ্রুত কে’টে যাব’ে তাদের ক্লান্তি।

স্নায়ুতন্ত্রের কর্মক্ষমতা বাড়ায় – খেজুর নানা ভিটামিনে পরিপূর্ণ থাকার কারণে এটি মস্তিষ্কের চিন্তাভাবনার গতি বৃ’দ্ধি রাখে, স’ঙ্গে স্নায়ুতন্ত্রের কর্মক্ষমতা বাড়ায়। একটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ছাত্র-ছাত্রী যারা নিয়মিত খেজুর খায় তাদের দক্ষতা অন্যদের তুলনায় ভাল থাকে।

হৃদরোগ প্রতিরোধ – খেজুরে রয়েছে পটাশিয়াম যা বিভিন্ন ধরণের হৃদরোগ প্রতিরোধ করে এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, খেজুর শরীরের খারাপ ধরণের কোলেস্টেরল কমায় (LDL) এবং ভাল কোলেস্টেরলের (HDL) পরিমাণ বৃ’দ্ধিতে সাহায্য করে।। খেজুরের উপকারিতাগু’লো তো জানলেনই, তাই শুধু রমজান মাসেই নয়, আমা’দের খেজুর খাওয়া উচিত সারাবছর, প্রতিদিন।

লেখক: ইশরাত জাহান, প্রধান পুষ্টিবিদ, বিআরবি হসপিটাল।

Check Also

অভিমানে অবশেষে প্রাণটাই শেষ করে দিল নববধূ

প্রে’মের ব’ন্ধ’নে জ’ড়ি’য়ে বিবাহব’ন্ধনে আ’ব’দ্ধ হয়েও কপালে সুখ জো’টেনি জেস’মিন আ;ক্তার রিমির (২৫)। প্র’ভাবশালী প’রিবারের …