Home / এক্সক্লুসিভ / কর্মক্ষেত্রে মাথাব্যথা! দূর করুন সহজ এই পদ্ধতির মাধ্যমে

কর্মক্ষেত্রে মাথাব্যথা! দূর করুন সহজ এই পদ্ধতির মাধ্যমে

প্রচণ্ড মাথাব্যথা নিয়ে কাজ করাটা খুব কঠিন ব্যাপার। আর সেই মাথাব্যথাটা যদি অফিসে থাকাকালীন শুরু হয়, তাহলে তো আর কথাই নেই। কীভাবে অফিসে শুরু হওয়া এই মাথাব্যথাকে পাশে রেখে কাজগুলো ভালোভাবে শেষ করবেন?

১। দ্রুত ওষুধ সেবন করুন

একটু অপেক্ষা করে দেখি। যদি মাথাব্যথা চলে যায়— এমন চিন্তা মোটেও পোষণ করবেন না। বিশেষ করে, আপনার যদি মাইগ্রেনের সমস্যা থাকে, তাহলে ব্যথার লক্ষণ বোঝার সঙ্গে সঙ্গেই ওষুধ গ্রহণ করুন। মাইগ্রেনে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে একটু ঝলসানো আলো, উদ্ভট গন্ধ- এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে প্রাথমিকভাবে ব্যথাকে বোঝার জন্য। তবে এমনটা না হলেও ব্যথা শুরুর প্রথমদিকেই ওষুধ নিন। এতে করে ব্যথা আর পরবর্তী ধাপে যাবেই না।

২। ওষুধের সঙ্গে জলও পান করুন

অনেকটা সময়ের জন্য আমাদের শরীর জলশূন্য হয়ে পড়লে মাথাব্যথা শুরু হয়। তাই, ওষুধ খাওয়ার আগে ভাবুন, আজ সঠিক পরিমাণে জল পান করেছিলেন তো? বিশেষ করে এয়ার কন্ডিশনে থাকলে বা গ্রীষ্মকালে এমনটা বেশি দেখা দিতে পারে। এ সময় তাই প্রচুর পরিমাণে জল পান করুন। এতে করে মাথাব্যথার পরিমাণ অনেকটা কমে যাবে।

৩। মানসিক চাপকে বিদায় দিন

আমাদের মানসিক চাপ কম্পিউটার, মোবাইল- এমন অনেক স্থান থেকেই আসতে পারে। এগুলোকে পুরোপুরিভাবে বিদায় আপনি দিতে পারবেন না। বিশেষ করে কর্মক্ষেত্রে এসবের সহায়তায় আপনাকে কাজ করতে হবে। তবে হ্যাঁ, কিছুটা সময়ের জন্য হলেও আপনাকে মানসিক চাপ দিচ্ছে বা চোখে পীড়া দিচ্ছে এমন জিনিসগুলোর থেকে দূরে থাকুন। চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করলে তিনিই আপনাকে সঠিক বিশ্রামের পরিমাণটা জানিয়ে দেবেন। ঠিক তার কথানুসারে নিজেকে বিশ্রাম দিন। মিনিট দশেকের জন্য হলেও মানসিক চাপ থেকে ছুটি নিন। মাথাব্যথা একটু হলেও কমে আসবে।

৪। কাজগুলো সাজিয়ে নিন

অনেক বেশি মানসিক চাপের কারণে যদি মাথাব্যথা হয়, তাহলে প্রথমেই নিজের কাজগুলোকে খাতায় লিখে নিন। একটি একটি করে কাজ শেষ হলেই সেগুলোকে কেটে দিন খাতা থেকে। এতে করে কাজ আর মনে রাখতে হবে না আপনাকে। বরং, একটি একটি করে কাজ শেষ হয়ে যাচ্ছে দেখলে আপনার অনেক ভালো লাগবে। মানসিকভাবে চাপমুক্ত মনে হবে।

৫। মাথাব্যথার কারণ লিখে রাখুন

কিছুদিন ধরে নিজের মাথাব্যথাকে অনুসরণ করুন। অনেক কারণেই মাথাব্যথা হতে পারে। অনেক শব্দ, জল পান না করা, সূর্যের আলো, উজ্জ্বল আলো, গন্ধ- ইত্যাদি যে কোনো কারণই মাথাব্যথার ট্রিগার পয়েন্ট হিসেবে কাজ করতে পারে। আপনি কোন কারণে মাথাব্যথা বোধ করেন সেটা বুঝতে পারলে এই কারণগুলোকে এড়িয়ে চলা আপনার পক্ষে সহজ হবে।

৬। চশমা পরুন ও যথাযথ ব্যবস্থা নিন

অনেকসময় ঠিকভাবে না বসা, চশমা না পরা, সঠিকভাবে স্ক্রিনের দিকে না তাকানো এবং আলোর উচ্চতা মাথাব্যথাকে বাড়িয়ে দিতে পারে। এই সমস্যা থেকে দূরে থাকার জন্য চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে যথাযথ বসার অবস্থান এবং আলোর উচ্চতা ঠিক রাখুন। এছাড়া কম্পিউটার এবং অন্যান্য মাধ্যম থেকে নিঃসরিত আলো থেকে চোখকে বাঁচাতে চশমা ব্যবহার করুন। এতে করে খুব সহজেই মাথাব্যথা শুরু হওয়ার আগেই যথেষ্ট প্রতিরোধক নিয়ে নিতে পারবেন আপনি।

খুব সহজ মনে হচ্ছে উপরের এই নিয়মগুলো? এই ছোট ছোট কৌশলই আপনাকে অফিসের মধ্যে হওয়া অসম্ভব মাথাব্যথা থেকে মুক্তি দিতে পারে। তাই ভালোভাবে এই কৌশলগুলোকে টুকে নিন। ধীরে ধীরে সেগুলো ব্যবহারের মাধ্যমে নিজের অভ্যাসে পরিণত করুন। তাহলে একটা সময় গিয়ে আপনার মাথাব্যথা শুরুর আগেই আপনি বুঝতে পারবেন যে, এটি প্রতিরোধে ঠিক কী কী করা প্রয়োজন

Check Also

শহরগুলোতে দে’হব্যবসায় ঝুঁকছেন করো’নায় কর্মহীন শিক্ষার্থীরা

কোভিড-১৯ সংক্রমণ কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না। এর ছাপ পড়েছে সর্বত্র। বহু মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। …