Home / সারাদেশ / সাহেদ কাণ্ডে ফেঁসে যাচ্ছেন যেসব রাজনীতিবিদ

সাহেদ কাণ্ডে ফেঁসে যাচ্ছেন যেসব রাজনীতিবিদ

রিজেন্ট হাসপা’তালের মালিক প্রতা’রক সাহেদ গ্রে’প্তা’র হয়েছেন। আজ ভোর ৫ টা ১০ মিনিটে তাঁকে সাতক্ষীরা থেকে গ্রে’প্তা’র করে র‍্যাব। গ্রে’প্তারের পর তাঁকে ঢাকায় হেলিকপ্টারে করে নিয়ে আসা হয়েছে এবং ঢাকায় যে তাঁর গো’পন অফিস,

সেই গো’পন অফিসে অভি’যান চালানো হয়েছে। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে গত ৯ দিন আগে রিজেন্ট হাস’পাতালে অভি’যানের পর থেকে এখন পর্যন্ত সাহেদের ব্যাপারে যে সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে তাতে দেখা গেছে যে,

সাহেদের এই উত্থান এবং তাঁকে সহায়তার জন্য এখন পর্যন্ত ১২ জন পৃষ্ঠপোষকের সন্ধান পাওয়া গেছে। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার একটি সূত্র বলছে এই সংখ্যা আরো বেশি হবে। তবে এখন পর্যন্ত যাঁদের পাওয়া গেছে তাঁদের ব্যাপারে অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে যে, এই ১২ জনের মধ্যে ৬ জন উর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা। যাঁদের মধ্যে দুইজন এখন অবসরে গেছেন আর চারজন রাজনীতিবিদ যারা সাহেদকে রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত করেছে এবং

রাজনৈতিক অঙ্গনে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছেন। আর দুইজন গণমাধ্যম কর্মী যারা জনপ্রিয় দুটি টকশো উপস্থাপনা করেন যারা সাহেদকে টকশোর মাধ্যমে সামাজিক পরিচিতি এবং সুশীল হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

উল্লেখ্য যে, প্রতারক সাহেদ ২০১৬ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রতারক হিসেবে চিহ্নিত হন এবং তাঁর ব্যাপারে সতর্ক থাকার জন্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সার্কুলার জারি করে। কিন্তু এই সার্কুলারকে পাশ কাটিয়ে সাহেদ নতুন পরিচয়ে আবির্ভূত হন এবং নাম পরিবর্তন করে তিনি সরকারের অন্দরমহলে ঢুকে পড়েন। জানা গেছে যে,

সরকারের অন্দরমহলে ঢুকে পরার পেছনে কয়েকজন সরকারি উর্ধ্বতন কর্মকর্তা সহযোগিতা করেছেন এবং এদের পৃষ্ঠপোষকতায় সাহেদ সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রে জানা গেছে যে, সরকারের সাবেক দুইজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, যারা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কাজ করতেন তাঁরা সাহেদের উত্থানের পেছনে

বড় পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন এবং এদের কারণেই সাহেদ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ অন্যান্য সরকারি অফিসগুলোতে তাঁর প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছিল। এই দুজন পৃষ্ঠপোষকের বাইরে আরো ৪ জন উর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তার নাম পাওয়া গেছে যাঁদের সঙ্গে সাহেদের সখ্যতা ছিল। সাহেদ তাঁদের সঙ্গে নিয়মিত যোগযোগ করতেন এবং

বিভিন্ন ব্যাপারে সাহেদের জন্য তাঁরা তদবির করতেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, রিজেন্ট হাসপাতালকে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে এই প্রভাবশালী সরকারী কর্মকর্তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

তাঁদের অনুরোধের কারণে রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর চুক্তি করে বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রশাসনের প্রভাবশালী এই উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বাইরেও কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সাহেদকে পৃষ্ঠপোষকতা করেছে। সাহেদ সুকৌশলে এদের সঙ্গে সখ্যতার সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং

এদের মাধ্যমেই আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক উপকমিটিতে যুক্ত হয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের এরকম চারজন নেতার নাম পাওয়া গেছে যাঁদের সঙ্গে সাহেদের সখ্যতা ছিল এবং এরা সাহেদকে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করেছেন। এদের মধ্যে অন্তত দুজন সাহেদ যেন আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে সে ব্যাপারে সহযোগিতা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছিল।

সাহেদও বিভিন্ন জায়গায় আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হবেন-এমন আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছিলেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এছাড়া গণমাধ্যমের দুটি জনপ্রিয় টকশোর উপস্থাপকও সাহেদকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছেন। সাহেদ এদের সঙ্গে সখ্যতা করেই গণমাধ্যমে একজন সুশীল হিসেবে আবির্ভূত হন এবং বিভিন্ন টকশোতে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

এই দুইজন গণমাধ্যমকর্মী বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে সাহেদের জন্য দেনদরবার করে যেন সাহেদকে টকশোতে নেওয়া হয়। তবে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সূত্রে জানা গেছে যে, এই ১২ জনের বাইরে আরো কিছু ব্যক্তি আছে যারা সাহেদকে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করেছিলেন।

তাঁদের সঙ্গে সাহেদের সম্পৃক্ততা কি এবং এই সম্পর্কগুলো কিভাবে তৈরি হয়েছিল আর এই সম্পর্কের মাধ্যমে তাঁরা অনৈতিকভাবে লাভবান হয়েছিলেন কিনা এই সমস্ত ব্যাপার বিচার-বিশ্লেষণ করার মাধ্যমে সাহেদের পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানা গেছে।

Check Also

কঠিন ভাবে ফেঁ’সে যাচ্ছেন দিহান, চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন বাসার দারোয়ান

কলাবাগান থা’নার পরি;দর্শক (অ’পারে;শন) ঠাকুর দাস আজ গণ;ধ্যমে বলে;ন বলেন, সাক্ষী হি;সেবে জবা;নব’ন্দি রে;কর্ড; করার …