Home / সারাদেশ / মহিলা ডাক্তার আমার পেশির পরীক্ষা করে বলল,’তোমাকে ধ’র্ষণ করা প্রয়োজন’

মহিলা ডাক্তার আমার পেশির পরীক্ষা করে বলল,’তোমাকে ধ’র্ষণ করা প্রয়োজন’

বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় যেন একের পর এক কাল লেগেই আছে। বিশেষ করে সম্প্রতি সময়ে দেশ সব থেকে বেশি উত্তাল এই চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়েই। করো’নার এই মহামা’রীর সময়ে দেশে একের পর এক দূর্ঘটনা ঘটে যাচ্ছে এই চিকিৎসা ব্যবস্থায়। তবে এবার এমন একটি ঘটনা ঘটেছে যা বিশ্বা’স করতে ক’ষ্ট হবে অনেকেরই।

এবার রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতা’লে এক চিকিৎসকের বি’রুদ্ধে নারী রোগীকে অ’/শা’/লী’/ ন মন্তব্য করার অ’ভিযোগ উঠেছে। ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আফসারা তাসনিম বুশরা রোববার (১২ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ওই চিকিৎসকের বি’রুদ্ধে এ অ’ভিযোগ করেন। তবে অ’ভিযু’ক্ত চিকিৎসক হাসপতাল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ অ’ভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

বুশরার ওই ফেসবুক পোস্টের শিরোনাম ছিল, ’তোমাকে ধ’/র্ষি’/ত হতে হবে।’ ওই পোস্টে তিনি জানান, স্ত্রী’রোগ বিশেষজ্ঞ ওই চিকিৎসক তার যৌ’/না’/ঙ্গে’/ র সমস্যা পরীক্ষা করার সময় উপরোক্ত মন্তব্য করেন।

ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার যখন ২১ বছর বয়সী বুশরা যৌ’নাঙ্গের ’ভি’/জি’/নি’/স’/মা’/স’ নামক এক অ’সুস্থতার জন্য স্কয়ার হাসপাতা’লের প্রসূতি ও স্ত্রী’রোগ বিশেষজ্ঞের পরাম’র্শক ডা. কাজী শামসুন নাহারের কাছে যান। তখন ওই চিকিৎসক তাকে তার মায়ের সামনেই অশালীন ভাষায় মন্তব্য করেন বলে অ’ভিযোগ করেন ওই নারী।

এ নিয়ে রোববার বুশরা ফেসবুকে লেখেন, ’ডাক্তার কাজী শামছুন নাহার, আপনি একটি অ’পমান। আপনি পৃথিবীর সকল ডাক্তার যারা জীবন পরিবর্তন করছেন তাদের জন্য একটি অ’পমান এবং আপনি সকল মানুষের জন্য একটি অ’পমান কারণ যে আমা’র রোগ নির্ণয়ের সময় আমাকে ধ’/র্ষ’/ ণ করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করতে পারেন। জানি বিচার পাবো না আর তুমি হয়তো মুক্ত হয়ে হাঁটবে, কিন্তু এটা একটা ম’রিয়া প্রচেষ্টা অন্য মেয়েকে তোমা’র চেম্বারে যেতে বাধা দেওয়ার।’

আফসানা ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ’মহিলা (ডা. কাজী শামসুন নাহার) আমা’র পেশির পরীক্ষা করছিলেন, যা ছিল অ’ত্যন্ত ক’ষ্টদায়ক। আমি তাকে বলেছিলাম, আমি ব্যাথা পাচ্ছি। পরীক্ষার পর তিনি আমা’র সামনে বসলেন এবং কারও মুখ থেকে শুনলাম এমন ভয়াবহ কথা। তিনি আমাকে বলেছিলেন, যে আমা’র স্বাস্থ্যের উদ্বেগজনক বিষয়টি স’ম্পর্কে কারও সাথে কথা বলা উচিত নয় এবং আমা’র যৌ’/না’/ ঙ্গ ভবিষ্যতের জন্য আমা’র জন্য সমস্যা সৃষ্টি করতে চলেছে। তার মানে তিনি যৌ’/ন’/শি’/ক্ষা’/র চূড়ান্ত বিরোধী এবং মানুষ তাদের যৌ’/ন স্বাস্থ্য নিয়ে কিছু শিখতে চায় না।’

আফসানা আরোা লেখেন, ’আমি তার পরবর্তী কথাটি উদ্ধৃতিতে রেখে দেব, কারণ এটি আমা’র কাছে ইংরেজি বা অন্য কোনো ভাষায় প্রকাশ করার মানসিকতা নেই। তিনি বলেন, “এসব মে’য়েদের হাজবেন্ড একটু জংলি টাইপের হওয়া উচিত, যাতে তারা একেবারে রে’/প করে ফেলে। কারণ এই মেয়েরা তাদের অবস্থার জন্য ক’ষ্ট করে যৌ’/ন সম্মতি দিতে চায় না। সুতরাং এটা ঠিক করার জন্য তাদের ধ’/র্ষ’/ণ করা উচিত।”

আফসানা লেখেন, ’কা’ন্নায় তার চেম্বার ছেড়ে জীবনের জঘন্যতম আতঙ্কের আক্রমণে ভেঙে পড়লাম। আমি বিশ্বা’স করতে পারছি না যে আমি শুধু কাউকে এই কথা বলার জন্য টাকা দিয়েছি এবং আমি খুব আ’ঘাত পেয়েছি। তাকে কিছু না বলায় নিজের ওপর রাগ হচ্ছিল, কারণ কত মেয়ে এই মহিলার চেম্বার ছেড়ে চলে গেছে কে জানে, এই ভেবে যে তাদেরও ধ’/র্ষি’/ ত হওয়া দরকার।’

ওই তরুণী বলেন, ওই চিকিৎসক পাঁচ থেকে ছয় বার জানতে চান, তার বিয়ে হয়েছে কি না বা বিয়ে ঠিক হয়েছে কি না।তিনি আমাকে বলেন, বিয়ে না হলে এ বিষয়ে এত কনসার্নড কেন? সময়ের আগে কোনো কিছু জানা উচিত না। আপনি তো ইন্টারকোর্স করছেন না, তাহলে জানতে চাচ্ছেন কেন? এটা আধুনিকতার লক্ষণ না।

করো’নাভাই’রাসে মা’রা গেলে এ ধরনের ’হাস্যকর ঘটনা’ দেখতে পেতেন না বলেও ওই চিকিৎসক রসিকতা করেছিলেন বলে বুশরা জানান।

এই ঘটনা প্রকাশ করার কারণ ব্যাখ্যায় বুশরা বলেন, এ ধরনের ঘটনা অনেক মেয়ের সাথে ঘটে থাকে। কিন্তু কেউই মুখ খোলেন না। আর একজন নারী ডাক্তার এই ধরনের কথা বলছেন, আমি বিশ্বা’সই করতে পারছিলাম না। আমি চাই না অন্য কোনো মেয়ে এ ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হোক। আমি চাই, এই ডাক্তারকে সবাই বয়কট করুক।

২১ বছরের ওই তরুণী জানান, স্কয়ার হাসপাতা’লে নিয়মিত চিকিৎসা সেবা নিয়ে এলেও এবারই প্রথম তিনি এই ধরনের আচরণের শিকার হয়েছেন।

বুশরা তার চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে পোস্ট দিয়েছেন তার পরিপ্রেক্ষিতে ডা. শামসুন নাহার একটি লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, ’গত শনিবার বুশরা নামের এক রোগী কিছু সমস্যা নিয়ে আমা’র কাছে আসেন। রোগীর সমস্যার পরিপ্রেক্ষিতে তার সাথে আলোচনার ভিত্তিতে সঠিক রোগ নির্ণয়ের জন্য এবং রোগীর শারীরিক ও মানসিক অবস্থা বোঝার জন্য খুবই যু’ক্তিসংগত এবং প্রাসঙ্গিক কিছু প্রশ্ন করি। রোগীর শারীরিক অবস্থা বোঝার জন্য (যা রোগ নির্ণয়ের জন্য আবশ্যক) অনুমতি সাপেক্ষে তার মায়ের উপস্থিতিতে শারীরিক পরীক্ষা করা হয় এবং সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজনীয় পরাম’র্শ দেওয়া হয়।’

তিনি বলেন, ’কনসালটেন্সি চলাকালীন সময়ে রোগী এবং তার মায়ের সাথে কথোপকথনে কোনো প্রকার অসঙ্গতি ওনারা পেয়েছেন কি না তা আমা’র কাছে পরিলক্ষিত হয়নি। তাছাড়া এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে ওনারা আমা’র বা হসপিটাল কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো প্রকার অ’ভিযোগও করেননি।’

ডা. শামসুন নাহার আরো বলেন, ’পরবর্তীতে আমি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে জানতে পারি যে, উক্ত রোগী আমা’র বি’রুদ্ধে সম্পূর্ণ মনগড়া একটি অ’নৈতিক ব্যাখ্যামূলক অ’পপ্রচার চালাচ্ছেন, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমি একজন অব্স ও গাইনি বিশেষজ্ঞ হিসেবে বিগত ২২ বছর যাবত নিষ্ঠার সঙ্গে

অসংখ্য রোগীর চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত আছি। আমা’র বক্তব্যে যদি জনাবা আফসানা তাসনিম বুশরার মনে হয়ে থাকে যে আমি চিকিৎসাগত কোনো অসদাচরণ করেছি তাহলে তিনি অবশ্যই আমা’র বি’রুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবার পূর্ণ অধিকার রাখেন। তা না করে তিনি আমা’র ভাবমূর্তি নষ্ট করা জন্য এবং সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে যে অ’পপ্রচার চালাচ্ছেন তা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’

এ দিকে ইতিমধ্যে এই ঘটনাটি বেশ ভাই’রাল হয়েছে স্যোশাল মিডিয়াতে। সকলেই ঐ নারী ডাক্তারকে বেশ ভৎসনার চোখে দেখছে। একজন নারী ডাক্তার হয়ে এমন টা আরেক জন নারী রোগীর সাথে কিভাবে ঘটাতে পারে তা বুঝে উঠতে পারছেন না কেউ। এ দিকে তার বিষয়ে ইতিমধ্যে ব্যবস্থা গ্রহন করার কথা বলেছে স্কয়ারশাসপাতা’লের কৃর্তপক্ষ। এ বিষয়ে স্কয়ার হাসপাতা’লের কাস্টমা’র কেয়ার ম্যানেজার মো. জাহাঙ্গীর বলেন, ’এই ঘটনার ত’দন্ত করা হয়েছে। আম’রা আমাদের বিস্তারিত বক্তব্য দিয়েছি।’

Check Also

গোলাম সারোয়ার সাঈদীর মা’রা গেলেন কিন্তু কিছু কাজ থেকেই গেল!

কসবার আড়াইবাড়ি আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ, পীরসাহেব গোলাম সারোয়ার সাঈদী (৫২) ই;ন্তে;কা;ল করে;ছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া …