Home / এক্সক্লুসিভ / এমন পরিস্থিতিতে কি করছেন যৌ’ন কর্মীরা ! যা জানালো যৌ’ন কর্মী’রা

এমন পরিস্থিতিতে কি করছেন যৌ’ন কর্মীরা ! যা জানালো যৌ’ন কর্মী’রা

প্রা’ণঘাতী করোনা ভাইরাসের প্র’ভাব পড়েছে সকল পেশাজীবীদের উপর। করোনার এই সময়ে ভালো নেই সমাজের আদিম পেশাজীবী যৌ’নকর্মীরাও।

যৌ’নকর্মীদের এমন অবস্থা চলছে সারা বি’শ্বেই। বাংলাদেশের দৌলতদিয়া ঘাট, কলকাতার সোনাগাছি, থাইল্যান্ড কিংবা স্পেন সবখানেই মা’নবেতর জীবনযাপন করছে যৌ’ন কর্মীরা।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, থাইল্যান্ডে তিন লাখের বেশি নারী যৌ’নকর্মী হিসেবে কাজ করে। করোনার এই সময়ে গ্রাহক না থাকায় ব’ন্ধ হয়ে গেছে তাদের জীবিকা। আর এতে করে খাদ্যের সংস্থান করতে পারছে না তারা

তাই করোনা ভাইরাসের সং’ক্রমণের ভ’য় থাকালেও, অনেকেই চাইছেন নিজেদের ব্যবসায় ফিরে যেতে। পিম নামের যৌ’নকর্মীর জানায়, গ্রাহক না থাকায়, রোজগার একেবারে ব’ন্ধ হয়ে গিয়েছে।

বাড়ি ভাড়া দিতে না পারায় তাঁকে নেমে আসতে হয়েছে রাস্তায়। আরেক যৌ’নকর্মী অ্যালিসও জানায়, অন্যসময় আমরা সপ্তাহে অন্তত ৩০০ থেকে ৬০০ ডলার রোজগার করে থাকি।

আমরা গরীব, আমাদের পক্ষে অন্য কিছু করা সম্ভব নয় তাই এই ব্যবসায় এসেছি। কিন্তু রোজগার ব’ন্ধ হয়ে গিয়েছে একেবারে। খাওয়ার কথা ছেড়ে দিন ঘর ভাড়া দিতে না পারলেই আমাদের বের করে দেওয়া হবে।

করোনা ভাইরাসের কারণে মানুষের আ’নাগোনা নেই। তাতে অ’র্থকষ্টে পড়েছে ইভেলিন, আলেনকা ও বেওনসের মতো স্পেনের অসংখ্য যৌ’নকর্মী। স্পেনে এমনিতেই যৌ’ন কর্মীদের অধিকার আইন দ্বারা তেমন সুরক্ষিত নেই।

এর ওপর কঠিন এই সংকটে ছাড়িয়ে গেছে তাদের দুর্দশার মাত্রা। বন্ধ ক্লাবগুলো, ঘর থেকে বের হচ্ছেন না খ”দ্দেররা। জানা যায়, স্পেনের ক্লাব মালিকেরা সব মে’য়েদের রাস্তায় ছুড়ে ফেলে দিয়েছে।

৩৫ বছর বছর বয়সী এই কলম্বিয়ান থাকেন মাদ্রিদের একটি হোস্টেস ক্লাবের মধ্যে। যৌ’ন কর্মী হিসেবে কাজ করার অধিকার পেতে তাকে প্রতি মাসে গুনতে হয় ২,১০০ ইউরো। ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই ২,১০০ ইউরো রুমের জন্য দিতে হয়। তারা এটাকে ভা’ড়া হিসেবে নেয়।

কলকাতার সোনাগাছি এলাকাকে এশিয়ার সবথেকে বড় যৌ’নপল্লী বলা হয়ে থাকে। এখানে সারা দিন, সারা রাত খ”দ্দেরদের আনাগোনা চলতেই থাকে। কিন্তু করোনার কারণে উত্তর কলকাতার ওই অঞ্চলটি একেবারে শু’নশান, নি’স্তব্ধ।

রাস্তায় কোনও নারী যৌ’নকর্মী খ’দ্দেরের অপেক্ষায় থাকছেন না এখন। তারা এখন অ’পেক্ষা কখন কোনও স্বে’চ্ছাসেবী সংগঠন তাদের খাবার বিলি করতে আসবে। এই এলাকাতেই যৌ’নকর্মী হিসেবে তিরিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করা সীমা বলেন, আমরা যে কী অবস্থায় পড়েছি, বিশ্বাস করতে পারবেন না।

একটাও খ’দ্দের নেই আজ কয়েক সপ্তাহ। তাদের আসার উপায়ই তো নেই। একটা পয়সা রোজগার নেই দুই ছে’লে, পুত্রবধূ, তার দুটো বাচ্চাকে নিয়ে কী করে বাঁচব কে জানে! শুধু আমার না, হাজার হাজার মে’য়েদের একই অবস্থা এখানে। এমন চিত্র এখন সোনাগাছির প্রতিটি ঘরেই।

করোনার কারণে বিশ্বের অন্যান্য দেশের পাশাপাশি মা’নবেতর জীবনযাপন করছে বাংলাদেশের যৌ’নকর্মীরাও। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় যৌ’নপল্লী হল রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া। করোনার কারণে দৌলতদিয়াসহ ভালো নেই বিভিন্ন জায়গার ভাসমান যৌ’নকর্মীরা।

‘সে’ক্স ওয়ার্কার্স নেটওয়ার্কস বাংলাদেশ’ যৌ’নকর্মীদের অধিকার, সমস্যা ও সমাধান নিয়ে কাজ করা ২৯টি সংগঠনের জোট। সংগঠনটির নিজস্ব ওয়েবপেইজে তারা জানায়, দীর্ঘ লকডাউনের ফলে অর্থনৈতিক ম’ন্দা দেখা দিবে।

ফলে নিন্ম শ্রেনীর মানুষ অ’ভাবগ্রস্ত হবে। করোনার চেয়েও ম’হামারী হয়ে দেখা দিবে ক্ষু’ধা। আর এ কারণেই এ পেশায় অনেক না’রী বাধ্য হয়ে আসবেন। ২০১৮-১৯ সালের সরকারি পরিসংখ্যান মোতাবেক এদেশের মোট যৌ’নকর্মী রয়েছেন তিন লাখ চার হাজারের মতো। তাদের মধ্যে ভাসমান যৌ’নকর্মী রয়েছে।

এছাড়া দেশে ১১টি প’তিতাপল্লী রয়েছে। এসডব্লিউএনের একজন নারী বলেন, যৌ’নকর্মীদের জন্য খাবার সংগ্রহ অ’সম্ভব হয়ে পড়েছে। নারায়ণগঞ্জ ও দৌলতদিয়াতেই প্রায় আড়াই হাজার যৌ’নকর্মী রয়েছেন। প্রত্যেকদিন তারা খাবারের জন্য ফোন করছেন।

Check Also

রাতে ঘুমানোর আগে যে পানীয় ১ গ্লাস খেলে উ’ধাও মেদ-ভুঁড়ি!

দিনে দিনে আমাদের ব্যস্ততা যেন বেড়েই চলছে। কোন অবসর নেই আমাদের জীবনে! ঠিক ব্যস্ততার সাথে …