Home / ইসলাম / ত্রিশ হাজার খ্রিস্টানের গুরু যেভাবে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন

ত্রিশ হাজার খ্রিস্টানের গুরু যেভাবে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন

পুরো বাংলাদেশে খ্রিস্টান মিশনারীরা মুসলমানদের ঈমান ন”ষ্ট করার জন্য ঝাঁ”পিয়ে পড়েছে। তারা রাত দিন বি”রামহীন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের চেষ্টায় মুসলমানেরা দলে দলে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করতে লাইন ধরেছে। না বুঝে ঝাঁ”প দিচ্ছে আ”গুনে, জ¦লতে যাচ্ছে চিরস্থায়ী জা”হান্নামে। খ্রিস্টানেরা সাধারণত তিন শ্রেণির মানুষকে টার্গেট বানায়। ১. অ’জ্ঞ ২. দরি’দ্র ৩. সর’ল।

কুরআনের অ”পব্যাখ্যা করে, লো”ভ দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে খ্রিস্টান বানায়। বিভিন্ন গির্জা প্রতিষ্ঠা করে। কোথাও আবার এবাদতখানা নামে গির্জা কায়েম করে। যেখানে ভেতরে ভেতরে বড় একটি অংশ খ্রিস্টান হয়ে যায়, সেখানেই তারা গির্জা প্রতিষ্ঠা করে। বিভিন্ন গির্জা ও মুরতাদ হওয়ার খবর প্রায়ই আসতে থাকে। খবর পেয়ে হৃদয়ে অস্থিরতা, হা-হুতাশ ছাড়া আর কিছু করার থাকে না।

এমনিভাবে একদিন খবর এলো জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ থানা থেকে। আমার এক বন্ধু যিনি সেসময় জামিয়া হুসাইনিয়া মেলান্দহ মাদ্রাসার মুহাদ্দিস ছিলেন, তিনি ফোনে খবর দিলেন মাদারগঞ্জে একটি মুসলিম গ্রামে খ্রিস্টানদের গির্জা প্রতিষ্ঠা হয়েছে। এখানে দাওয়াতি কাজ করা প্রয়োজন। অনেক সময় বিভিন্ন খবর আসে, কিন্তু বাস্তবতা অনেক ক্ষেত্রে তেমনটা হয়না। তাই ঘ’টনাটি যাচাই করার জন্য সফর করলাম জামালপুরে।

সাথে ছিলেন আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধুবর জনাব ইঞ্জিনিয়ার আমিনুল ইসলাম। তার গ্রামের বাড়ি জামালপুরের মেলান্দহতে। তিনি ছিলেন এই সফরের রাহবার। মেলান্দহ থেকে আমিনুর ভাইয়ের মোটরসাইকেলে চড়ে গেলাম মাদারগঞ্জ থানার কয়লাকান্দী গ্রামে। সাথে ছিলেন মুফতী গোলাম রাব্বানী সাহেব ও মেলান্দহ মাদরাসার মুহতামিম মুফতী সামসুদ্দিন সাহেব। আরো ছিলেন মুফতী আমিনুল ভাই। কয়লাকান্দী গ্রামটি হলো যমুনার চরে।

রাস্তা-ঘাট তেমন সুবিধার না। রাস্তার পাশে প্রতিষ্ঠিত মুসলমানদের গ্রামে স্কুলের নামে এক বিশাল গির্জা। চতুর্দিকের দেওয়ালে ঘেরা সেই গির্জাটি। সেখানে কর্মরত আছেন দুইজন খ্রিস্টান। তবে তিনি হিন্দু থেকে খ্রিস্টান হয়েছেন। বাড়ি তার গোপালগঞ্জ। এই গ্রামে একটি মক্তব আছে। তবে মক্তবের বাতি টিম টিম করে জ¦লে মাঝে মাঝ, আবার নিভেও যায়। যাক ঘটনা স্বচক্ষে দেখলাম, কিছু অন্তরজ¦ালা ও অস্থিরতা নিয়ে ঢাকায় ফিরলাম।

মাশওয়ারা সে সময় হযরত মাওলানা আবু সাঈদ মুহাম্মদ ওমর আলী রহ. জীবিত ছিলেন। তিনি ছিলেন আধ্যাত্মিক জগতের কামেল আল্লাহর ওলী। তাঁর বুযুর্গিকে তিনি বিনয়ের পর্দায় ঢেকে রাখতেন। মুফাক্কিরে ইসলাম সাইয়্যেদ আবুল হাসান আলী নদভী রহ.- এর সুযোগ্য খলিফা ছিলেন। উম্মতের দরদী ছিলেন। সর্বদা তাঁকে দেখতাম উম্মত নিয়ে চিন্তিত। ধর্মান্তরিতের খবর তাঁকে অস্থির করে রাখত। ইসলামী বিশ^কোষ ও সিরাত বিশ^কোষ তাঁর হাতেই রচিত।

তিনি ইসলামী ফাউন্ডেশনে বিশ^কোষ বিভাগে দায়িত্বরত ছিলেন। এই মহান ব্যক্তিত্বের নাম সর্বপ্রথম শুনি আমার শায়খ হযরত মাওলানা কালিম সিদ্দিকী দা. বা. এর মুখে। তিনি বললেন, বাংলাদেশে গিয়ে মাওলানা ওমর আলী সাহেবের সাথে যোগাযোগ করবে। তিনি আমাকে পেয়ে খুব খুশি হয়েছিলেন। প্রথম সাক্ষাতে ফাউন্ডেশনে বসে আনন্দে বলছিলেন, মন চাচ্ছে তোমাকে আমি কোলে নিয়ে বসে থাকি। তাঁর হাত ধরেই আমার ঢাকা আসা। শেষ সময়ে তাঁর কাছেই আমাকে রাখতেন।

আল্লাহ তাঁর কবরকে নূরে নূরান্নিত করুন। ও জান্নাতের সুউচ্চ মাকাম দান করুন। মাদারগঞ্জ থেকে ফিরে হযরত মাওলানা ওমর আলী সাহেব রহ. এর সাথে পরামর্শ করলাম। তিনি বললেন, দেখ এখন তো মাদরাসাগুলোতে ক্লাস চলছে, জামাত নিয়ে যাওয়াও মুশকিল, দেখ কী করা যায়। আমি গেলাম হযরত মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী সাহেব দা. বা. এর কাছে। হুজুরকে মাদারগঞ্জের কারগুজারী শোনালাম, পরামর্শ চাইলাম। বললাম অন্যান্য সময় তো আমরা মাদরাসা ছুটি হলে জামাত নিয়ে যাই।

এখন তো ছুটির সময় না, কী করা যায়? হুজুর বললেন, তিনদিনের জন্য আমার মাদরাসার আদব বিভাগের ছাত্র-উস্তাদ সবাইকে নিয়ে যাও। তখন আদব বিভাগের জিম্মাদর ছিলেন বন্ধুবর মাওলানা আব্দুল্লাহ ফারুক। তিন দিনের জন্য মাদারগঞ্জে ওই এলাকায় জামাত যাওয়ার সিদ্ধান্ত হলো। দাওয়াতি সফর অক্টবর-২০১০.ঈসায়ীতে আমরা রওয়ানা হলাম মাদারগঞ্জের উদ্দেশ্যে। গিয়ে উঠলাম কয়লাকান্দি গ্রামের নুরানী মাদরাসার মসজিদে। ফ্লোরে চট বিছানো, ভাঙ্গা জানালা, দরজাহীন মসজিদ।

নামাজী সংখ্যা একেবারেই কম। এই সফরে বারিধারা মাদরাসার তিনজন উস্তাদও ছিলেন। বন্ধুবর মাওলানা মুজিবর রহমান ভাই আমার দেওবন্দের সফর সঙ্গী। মাওলানা মাহফুজ ভাই ও মাওলানা আব্দুল্লাহ ফারুক ভাই আমার দেওবন্দের সাথী। জামাতের তারতীব জামাতে সাধারণত তাহাজ্জুদে উঠে যাওয়া হয়, এরপর দুআ কান্নাকাটি। নাস্তার পর থেকে যোহর পর্যন্ত দাওয়াতের তালিম দেওয়া হয়। কীভাবে অমুসলিমদেরকে দাওয়াত দেওয়া যায় এবং মুরতাদকে ফিরিয়ে আনা যায় এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

যোহরের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত সরাসরি অমুসলিম ও মুরতাদদের মাঝে দাওয়াত দেওয়া হয়। আর স্থানীয় বাজারে সব ধর্মের লোকদের কাছে ধর্মসভার আয়োজন করা হয়। এতো হলো সংক্ষিপ্তভাবে দাওয়াতি সফরের তারতিব। প্রথম দিন প্রথম দিন আমরা স্থানীয় সাথীদের সাথে পরামর্শ করে নিলাম। আলোচনা হলো মহিলাদের মাঝেও দাওয়াতি কাজ করতে হবে। কারণ অনেক মহিলা খ্রিস্টান হয়ে গেছে। আর তাদের মধ্যেই এই কাজটি বেশি হয়ে থকে। সিদ্ধান্ত হলো মহিলাদের তালিমের দুটি পয়েন্ট হবে।

আমি বাংলাদেশি, হযরত আপনার কাছে দুআ চাইতে বলেছেন। আমার দেশর জন্যও দুআ করতে বলেছেন। এই সুযোগে লেবু ভাইয়ের কথাও বললাম। তিনি দুআ করলেন এবং হযরতের হালচাল জিজ্ঞাস করে বললেন হযরতকে আমার সালাম দেবেন। এই বলে সালাম দুআ শেষে বিদায় নিলাম। লেবু ভাইয়ের ইসলাম গ্রহণ আমরা হজের সফর থেকে ফিরলাম ১৭ তারিখে। ২০ তারিখে মাদারগঞ্জে সিরাত মাহফিল ছিল। মাহফিল শেষে লেবু ভাইকে ফোন করলাম, মনে করলাম যেহেতু কাছেই এসেছি তাই তাকে দাওয়াত দিয়ে যাই।

ফোন দিতেই বললেন যুবায়ের ভাই আপনাকে অনেক খুঁজেছি, কিন্তু আপনাকে পাচ্ছিলাম না। আমি বললাম কেন? বললেন একটি মহা সুসংবাদ জানাতে চাই। বললাম বলুন। আমি আসলে বুঝতে পেরেছি, আমি ভুল পথে ছিলাম তাই আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি এবং এই আনন্দে গ্রামের লোকদেরকে গরু জবাই করে খাইয়েছি। তবে আমি আপনাকে একটি ভুল তথ্য দিয়েছিলাম, বলে ছিলাম আমার মাধ্যমে এক হাজার মানুষ খ্রিস্টান হয়েছে। আসলে এই ত্রিশ বছরে ছয়টি জেলায় প্রচারের কাজ করেছি, সব মিলিয়ে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আমার মাধ্যমে খ্রিস্টান হয়েছে।

আমি এখন কী করতে পারি? আমি বললাম, আপনি যাদেরকে জা”হান্নামের পথ দেখিয়েছেন তাদেরকে জান্নাতের পথ দেখান। আর আপনার নিজের এসলাহের জন্য তাবলিগে তিন চিল্লা সময় লাগান। উনি বললেন, আমি তো এখন চট্টগ্রামে। আপনি একটু আমার বাসায় যান। গেলাম লেবু ভাইয়ের বাসায়। ঘটনা সঠিক, তার স্ত্রী সন্তানেরাও খুশি। লেবু ভাইয়ের ইসলাম প্রচার এখন লেবু ভাইয়ের অন্তরে এক ধরনের জ্বালা সৃষ্টি হয়েছে, তিনি নিজের পক্ষ থেকে মাহফিলের আয়োজন করতেন আমাদেরকে দাওয়াত দিতেন। এক মাহফিলের বক্তা ছিলাম আমরা, সেখানে উপস্থিত ছিলেন আমার বন্ধুবর মুফতি জহির সিরাজী ভাই, তিনি ও মাওলানা নাজমুদ্দিন ভাই যিনি আমাদের প্রিয় মাসউল।

আব্দুল খালেক মাস্টারকেও দাওয়াত দিলেন। যাক এক মাহফিলে লেবু ভাই খুব দরদের সাথে বলছিলেন, তার দরদমাখা কথাগুলো আজও আমার কানে ভাসছে। দরদভরা কণ্ঠে বলছিলেন, ‘ভাইসব, আমি আপনাদের অনেককে পথভ্রষ্ট করেছি। আপনাদেরকে ভুল পথে নিয়ে গিয়েছিলাম। আমি খুব ভালোভাবে বুঝতে পেরেছি সেটা ভুল পথ ছিল আমি সে পথ ছেড়ে দিয়েছি, আপনাদের কাছে করজোরে ক্ষমা চাচ্ছি এবং আপনাদেরকে ইসলামে ফিরে আসার আহ্বান করছি। এসব কথা বলছিলেন, আর তার চোখ দিয়ে টপ টপ করে গাল বেয়ে অশ্রু মাটিতে পড়ছিল।

আলহামদুলিল্লাহ তিনি প্রায় ৮০০ মানুষকে ফিরিয়ে এনেছেন। ঈমানের পরীক্ষা আল্লাহ পাকের সুন্নত হলো, কাউকে কিছু মূল্যবান জিনিস দিতে চাইলে একটু পরীক্ষা করেন। আমরাও সাধারণ থেকে সাধারণ কোনো জিনিস নিলে তার জন্য পরীক্ষা করে থাকি। যেমন একটি লাউ কিনলে একটু চিমটি দিয়ে পরীক্ষা করে দেখি।

Check Also

করোনার মধ্যেই নাইজেরিয়ায় গভর্নরের স্ত্রী খ্রিস্টান ধর্ম ছেড়ে ইসলাম গ্রহন

নাইজেরিয়ার ওগান রাজ্যের গভর্নর ইবিখুনলের স্ত্রী ফার্স্ট লেডি ওলুফানসো আমুসোন তার খ্রিস্টান ধর্ম ছেড়ে ইসলামে …