Home / এক্সক্লুসিভ / যৌ’ন বিকারগ্রস্থ শাসক, ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা এমনকি নিজের বোনকেও ছাড়েননি

যৌ’ন বিকারগ্রস্থ শাসক, ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা এমনকি নিজের বোনকেও ছাড়েননি

যুগে যুগে অনেক মানুষ তাদের স্বীয় প্রতিভা’র কারণে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছেন। তাদের কেউ ভালো কাজে স্ম’রণীয় আবার কেউ মন্দ কাজে। শাসক হিসেবে অনেক রাজা-বাদশার নাম ইতিহাসে উঠে এসেছে, যাদের নৃ’শংসতা সব মাত্রাকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল।

তাদের বর্বরতায় কখনো প্রা’ণ হারিয়েছে হাজারো মানুষ, আবার নিজেদের স্বতীত্ত্বতা হারিয়েছেন অনেক মা-বোন। ইতিহাসের তেমনই এক উন্মাদ ও যৌ’ন বিকারগ্রস্থ শাসক ছিলেন ক্যালিগুলা। যে নিজের বোনদের সঙ্গেও ব্যাভিচারে লিপ্ত হন, এমনকি তিনি ছাড়েননি বৃদ্ধাদেরও।

রোমের প্রথম সম্রাট আগাস্টাসের নাতনী ছিলেন আগারিপপিনা। রোমের প্রথম এই রাজ পরিবার জুলিও-ক্লাউডিয়ান রাজবংশ নামে পরিচিত। ক্যালিগুলার চাচা এবং দত্তক পিতা ছিলেন টাইবেরিয়াস। আগাস্টাসের পর ১৪ খ্রিষ্টাব্দে টাইবেরিয়াস রোমান সম্রাট হিসেবে নিযু’ক্ত হয়েছিলেন।

ক্যালিগুলার বেড়ে ওঠা
ক্যালিগুলার আসল নাম ছিল গাইয়াস জুলিয়ায় সিজার আগাস্টাস জার্মানিকাস। তৎকালীন জার্মানিয়াতে অ’ভিযান পরিচালনার সময় শি’শু গাইয়াস তার পিতার সঙ্গে ছিলেন। রোমান সৈন্যরা সে সময় অন্যান্য সাম’রিক পোশাকের সঙ্গে ক্যালিগা নামের এক ধরণের জুতা পরত। শি’শু গাইয়াস সে’নাপতি পিতা জার্মানিকাসের নিকট সাম’রিক পোশাক পরার আবদার করেন। জার্মানিকাস ছে’লের আবদার রক্ষা করেন। গাইয়াসের শরীরে সাম’রিক পোশাকের সঙ্গে পায়ে সৈন্যদের একটি ছোট ক্যালিগা পরিয়ে দেয়া হয়।

টাইবেরিয়াসের মৃ’ত্যুর পর ৩৭ খ্রিষ্টাব্দে ক্যালিগুলা রোমান সম্রাট হন। তবে ক্যালিগুলার বড় হয়ে ওঠা কিংবা সম্রাট হওয়ার পথ মোটেও স্বাভাবিক ও মসৃণ ছিল না। অগাস্টাস সিজারের মৃ’ত্যুর পর ১৪ খ্রিষ্টাব্দে টাইবেরিয়াস রোমান হন। তিনি ছিলেন অগাস্টাসের সৎ পুত্র কিন্তু একমাত্র জীবিত উত্তরাধিকারী। শাসন ভা’র গ্রহণের পরই তিনি জনপ্রিয় সে’নাপতি এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী জার্মানিকাসকে পূর্ব প্রদেশের শাসন ভা’র দিয়ে রোম থেকে দূরে পাঠিয়ে দেন।

তার উদ্দেশ্য ছিল জার্মানিকাসকে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু থেকে দূরে রাখা। পুত্র ক্যালিগুলাসহ পরিবারের সবাইকে নিয়ে জার্মানিকাস পূর্ব প্রদেশে গিয়েছিলেন। তবে এর কয়েক বছর পর তিনি অ’সুস্থ হয়ে মৃ’ত্যুবরণ করেন। অনেকেই ধারণা করেন, টাইবেরিয়াস গুপ্ত ঘা’তক পাঠিয়ে বিষ প্রয়োগে জার্মানিকাসকে হ’ত্যা করেছিলেন। পিতার মৃ’ত্যুর পর মা আগারিপপিয়ানা এবং অন্যান্য ভাই বোনের সঙ্গে রোমে ফিরে আসেন ক্যালিগুলা।

টাইবেরিয়াস স’ন্দেহ করেছিলেন আগারিপপিনা স্বামীর হ’ত্যার জন্য তাকে দায়ী করেন এবং প্রতিশোধ নেয়ার চেষ্টা করতে পারেন। এজন্য তাকে একটি দ্বীপে নির্বাসনে পাঠানো হয়। সেখানেই আগারিপপিনার মৃ’ত্যু হয়। তাকেও বিষ প্রয়োগে হ’ত্যা করা হয়েছিল বলে জানা যায়। ক্যালিগুলার বড় দুই ভাইকে টাইবেরিয়াস আ’ট’ক করে পরে হ’ত্যা করে। ক্যালিগুলাকেও ব’ন্দি করে হয়েছিল তবে সম্রাট টাইবেরিয়াস তাকে নিজের দত্তক পুত্র হিসেবে গ্রহণ করেন এবং উত্তরাধিকারী হিসেবে ঘোষণা করেন।

রোমান সম্রাট হিসেবে ক্যালিগুলা
পরিবারের একমাত্র পুরুষ সদস্য হিসেবে ক্যালিগুলা জীবিত ছিলেন। টাইবেরিয়াসের মৃ’ত্যুর পর ৩৭ খ্রিষ্টাব্দে ক্যালিগুলা রোমান সম্রাট হন। টাইবেরিয়াস অ’সুস্থ হয়ে মৃ’ত্যুবরণ করেন বলে প্রচারিত হলেও অনেক ইতিহাসবিদ মনে করেন, ক্যালিগুলা তাকে হ’ত্যা করেন। জনপ্রিয় সে’নাপতি জার্মানিকাসের সন্তান হিসেবে সম্রাট হওয়ার পর রোমবাসী ক্যালিগুলাকে সাদরেই গ্রহণ করেছিল। তবে তাদের মোহভঙ্গ হতে সময় লাগেনি।

অ’ত্যাচারী ও বর্বর ক্যালিগুলা
অ’ত্যাচারী, বিকারগ্রস্ত যৌ’ন লালসায় পূর্ণ এক নিষ্ঠুর ক্যালিগুলার রূপ দেখতে থাকে সবাই। কি’শোর বয়স থেকেই ক্যালিগুলা যৌ’ন বিকারগ্রস্ত ছিলেন। ইতিহাসবিদদের ধারণা, তিনি নিজের বোন দ্রুসিলার এবং লিভিলার সঙ্গে ব্যাভিচারে লিপ্ত হতেন। সম্রাট হওয়ার পর ক্যালিগুলাসের যৌ’ন বিকারগ্রস্ত রূপ আরো ভ’য়াবহ হয়ে ওঠে। তিনি অ’ভিজাত শ্রেণির ব্যক্তিদের স্ত্রী’-কন্যাদের সঙ্গে তাদের স্বামীর সম্মুখেই যৌ’নতায় লিপ্ত হতেন।

ক্যালিগুলার অমিতব্যয়ী খরচের জন্য রাজকোষ খালি হয়ে যায়। তিনি অর্থ আয়ের জন্য প্রাসদের মধ্যেই রাজকী’য় পতিতালয় খুলেছিলেন বলে জানা যায়। সেখানে রাজ্যের সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিদের স্ত্রী’-কন্যাদের পতিতাবৃত্তি করতে বাধ্য করা হত। কি’শোরী থেকে বৃদ্ধা সবাই এখানে পতিতাবৃত্তি করতে বাধ্য হতেন। এমনকি নিজের বোনদের অন্যের সঙ্গে যৌ’ন স’ম্পর্ক স্থাপনের জন্য বাধ্য করতেন ক্যালিগুলা।

তার যৌ’ন লালাসা থকে বৃদ্ধারাও রক্ষা পেতেন না। এমনকি যৌ’নতায় লিপ্ত হওয়ার পর অনেক নারীকে হ’ত্যাও করেছেন তিনি। অনেক ইতিহাসবিদ ক্যালিগুলাকে উন্মাদ কিংবা বিকারগ্রস্ত শাসক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ক্যালিগুলা সম্রাট হওয়ার পরেই ক্ষমতা নিজের হাতে কুক্ষিগত করতে চেয়েছিলেন। আর রাজসভা’র ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিদেরও তিনি বিশ্বা’স করতেন না। এমনকি সিনেটদের অ’পমান করে নিজের প্রিয় ঘোড়া ইন্সিটাটাসকে কনসাল হিসেবে নিযু’ক্ত করেছিলেন।

ক্যালিগুলা এতোটাই উন্মাদ ছিলেন যে, তুচ্ছ ঘটনাও রাজ্যের যে কোনো ব্যক্তিকে মৃ’ত্যুদ’ণ্ড প্রদান করতেন। রাজসভা, সে’না বাহিনী রাজ পরিবারের কেউই রক্ষা পেত না তার হাত থেকে। তার জন্ম’দিনের তারিখ ভুলে যাওয়ায় একবার তিনি দুইজন উপদেষ্টাকে মৃ’ত্যুদ’ণ্ড প্রদান করেছিলেন। তার অ’ত্যাচারের মাত্রা এতোটাই বেড়ে গিয়েছিলে যে, মৃ’ত্যুদ’ণ্ড প্রাপ্ত ব্যক্তিদের পিতা মাতাদেরও হ’ত্যা করা হত।

ক্যালিগুলা নিজেকে দেবতা হিসেবেও দাবি করেছিলেন। তার সম্মানে বিভিন্ন স্থানে মন্দির নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। যেখানে তার উপাসনা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। ক্যালিগুলার অ’ত্যাচার, বিকারগ্রস্ত যৌ’ন লালসা, উন্মত্ততায় রাজ্যের সর্বমহলের জনগণ ক্ষেপে উঠেছিলেন।

কয়েকবার তাকে হ’ত্যার ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়। অবশেষে ৪১ খ্রিষ্টাব্দে প্রিটোরিয়ান গার্ডের হাতে হ’ত্যার শিকার হয়েছিলেন। তার পরিবারের অন্যদেরও হ’ত্যা করা হয়েছিল। এভাবেই সমাপ্ত হয়েছিল একজন উন্মাদ অ’ত্যাচারী যৌ’ন বিকারগ্রস্ত শাসকের।

Check Also

এবার ফাঁকা বাসায় ছাত্র শিক্ষিকার গো’পন ভিডিও ফাঁস-(ভিডি.ওসহ)

ইওকাসতা নামের চল্লিশোর্ধ স্কুল শি’ক্ষিকা ছা’ত্রদের পাস করিয়ে দিতে একটি মাত্র শর্ত দিতেন। আর সেটি …