Home / ইসলাম / প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি এই মসজিদে দল বেধে নামাজ পড়েন মুসল্লিরা!

প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি এই মসজিদে দল বেধে নামাজ পড়েন মুসল্লিরা!

প্লাস্টিকের ফেলনা বোতল দিয়ে অনেকেই টুকিটাকি কারুশিল্প গড়ে তোলে। এসব জিনিস দেখতেও বেশ নান্দনিক ও রুচিসই হয়ে থাকে। শো-পিস হিসেবে এই শিল্পের বেশ কদর রয়েছে বর্তমান বিশ্বে। আবার প্লাস্ট্রিকের ঝুড়ি দিয়েও অনেকে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করে থাকেন। তবে সে সংখ্যা খুবই কম!

এমনই ফেলনা প্লাস্টিকের ঝুড়ি দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে আস্ত এক ম’সজিদ। দেখতেও বেশ নান্দনিক। এই ম’সজিদে মু’সল্লিরা দল বেধে নামজ পড়তে যান। এই ম’সজিদের অবস্থান ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায়। সেখানেই আকর্ষণীয় এই প্লাস্টিক ঝুড়ি দিয়ে অসাধারণ এই ম’সজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে।

ম’সজিদটিম’সজিদটি

ম’সজিদটি

মোট ১২০৮টি ফেলনা প্লাস্টিকের ঝুড়ি দিয়ে নান্দনিক এই ম’সজিদটি তৈরি করা হয়েছে। এই ছোট ম’সজিদটি সবসময় মু’সল্লিদের সালাত ও কোরআন তিলাওয়াতের আওয়াজে মুখরিত থাকে। প্লাস্টিকের ঝুড়ি দিয়ে তৈরি এই ম’সজিদটির আয়তন ৪৪০ বর্গফুট। এটি নির্মাণ করা হয় ২০১৯ সালে।

ইন্দোনেশিয়ার কেবিন আইডিয়া নামক প্রাকৃতিক আ’মেজে ঘেরা একটি রেস্টুরেন্টের প্রার্থনাকক্ষ। বিনতারো শহরে নির্মিত কোটাক্রাট নামক এই প্রার্থনাকক্ষটি তৈরির উদ্দেশ্য ছিল প্রার্থনার পাশাপাশি সুন্দর স্থাপত্য প্রদর্শন করা।

বাতিল প্লাস্টিকের ঝুড়ি ব্যবহার করে এই ছোট ম’সজিদ নির্মাণের পরিকল্পনাটি ছিল খুবই চ’মৎকার। আর তাছাড়া সেখানকার লোকজন বলে আমাদের রেস্টুরেন্টের অ’তিথি ও কর্মচারীদের জন্য একটি প্রার্থনাকক্ষেরও প্রয়োজন ছিল। প্রথমে অনেকে বুঝতেই পারেনি যে, এটি একটি ম’সজিদ।

নামাজরত এক ব্যক্তিনামাজরত এক ব্যক্তি
নামাজরত এক ব্যক্তি

এই ছোট ম’সজিদটি স্থানীয় স্থাপত্যশিল্প প্রতিষ্ঠান প্যারাসৌলি আর্কিটেক্ট স্টুডিও কর্তৃক নির্মিত হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানটি সমাজে বহু’মুখী উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান স্থাপত্যশিল্পী এরিও উই’রাসটোমো জানান, বহু’মুখী উন্নয়নমূলক কাজের অংশ হিসেবে আম’রা এই ম’সজিদটি তৈরি করেছি। শুধু এই ম’সজিদটি নয় বরং বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট দোকান, প্রার্থনাকক্ষ, আশ্রয়স্থান, বাসস্টপ, নিরাপত্তা চৌকি ইত্যাদিও আম’রা স্বেচ্ছামূলক উপায়ে তৈরি করে থাকি।

এসব স্থাপনা আম’রা বাতিল প্লাস্টিকের ঝুড়ি দ্বারা নির্মাণ করি। কারণ প্লাস্টিকের ঝুড়ি দিয়ে তৈরি কোনো স্থাপনা যে কোনো সময় যে কোনো আকৃতিতে পরিবর্তন করা যায়, আর এসব ঝুড়ি দিয়ে খুব সহ’জেই স্থাপনার ছাদ ও দেয়াল বানানো যায়।

নারীদের জন্যও নামাজের ব্যবস্থা রয়েছেনারীদের জন্যও নামাজের ব্যবস্থা রয়েছে
নারীদের জন্যও নামাজের ব্যবস্থা রয়েছে

এই ম’সজিদটির ছাদ, দেয়াল ও জুতা রাখার স্থান বানানোর জন্য সর্বমোট ১২০৮ টি প্লাস্টিকের ঝুড়ির প্রয়োজন হয়েছে। এই ম’সজিদটিতে মু’সল্লিদের ওজু করার জন্য পানির কলও রয়েছে। দেয়াল ও ছাদ বানাতে ঝুড়িগুলো জোড়া লাগানোর জন্য লোহার কুড়ুপ ব্যবহার করা হয়েছে। আর ছাদ ধরে রাখার জন্য ফাঁপা ধাতব খুঁটি ব্যবহার করা হয়েছে।

সৌন্দর্য বর্ধনে ম’সজিদের চারপাশে বিভিন্ন গাছ লাগানো হয়েছে। যাতে করে পরিবেশটা ঠাণ্ডা থাকে। তাছাড়া ম’সজিদের মধ্যে নামাজের পাটি, জায়নামাজ রাখার তাকও রয়েছে। ম’সজিদটিতে নারী-পুরুষের প্রবেশের জন্য দুটি ভিন্ন দরজাও রয়েছে। ছোট্ট এই প্রর্থনাকক্ষে মোট তিন কাতারে নামাজ পড়া যায়। প্রতিটি কাতারে নয়জন করে মু’সল্লি দাঁড়াতে পারে।

নামাজের জায়েনামাজ ও জুতা লাখার স্থাননামাজের জায়েনামাজ ও জুতা লাখার স্থান
নামাজের জায়েনামাজ ও জুতা লাখার স্থান

স্থাপত্যশিল্পী এরিও উই’রাসটোমো জানান, যেহেতু মু’সলমানরা যেখানেই থাকুক না কেন তাদেরকে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত সালাত অবশ্যই আদায় করতে হয়। তাই এই ছোট প্রার্থনাকক্ষটি রেস্টুরেন্টে আসা অ’তিথিদের উপকারে আসবে।

পুরোনো প্লাস্টিকের ঝুড়ি ব্যবহারের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে আম’রা জনগণের মধ্যে পরিবেশ স’ম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে পারি। পাশপাশি প্লাস্টিকও পুনরায় ব্যবহার করতে পারি।

Check Also

করোনার মধ্যেই নাইজেরিয়ায় গভর্নরের স্ত্রী খ্রিস্টান ধর্ম ছেড়ে ইসলাম গ্রহন

নাইজেরিয়ার ওগান রাজ্যের গভর্নর ইবিখুনলের স্ত্রী ফার্স্ট লেডি ওলুফানসো আমুসোন তার খ্রিস্টান ধর্ম ছেড়ে ইসলামে …