Home / Life Stile / ৬ সেকেন্ডে করো’নাকে মে’রে ফেলে আলট্রাভায়োলেট-সি রশ্মি?

৬ সেকেন্ডে করো’নাকে মে’রে ফেলে আলট্রাভায়োলেট-সি রশ্মি?

সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি বা আলট্রাভায়োলেট রে মূলত তিন ধরনের-এ, বি এবং সি। আর অতিবেগুনির সি রশ্মি করোনা মারতে অনেকটাই কার্যকর। ইউভি-সি বা আলট্রাভায়োলেট রে-সি রশ্মির নির্দিষ্ট পরিমাণ ডোজ করোনাকে মেরে ফেলতে পারে।

বৈশ্বিক লাইটেনিং সংস্থা সিগনিফাই এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাশনাল ইমার্জিং ইফেক্টিয়াস ডিজিজ ল্যাবরেটরিজ (এনইআইডিএল) এ সংক্রান্ত একটি গবেষণা চালিয়েছে। তাদের গবেষণায়ই এই দাবি করা হয়েছে।

করোনা মহামারি শুরুর পর থেকে বোস্টন ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের মাইক্রোবায়োলজির সহযোগী অধ্যাপক ড. অ্যান্টনি গ্রিফিথস এবং তার দল টিকাকরণ উপাদাননের সঙ্গে ইউভি-সি রশ্মির বিভিন্ন ডোজ দিয়ে চিকিত্সা করেছেন এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে করোনার নিষ্ক্রিয় করে দেওয়ার ক্ষমতাটি মূল্যায়ন করেছেন। তারা দেখেছেন, ‘পাঁচ এমজে/সেন্টিমিটার টু’র একটি ডোজে ছয় সেকেন্ডে ৯৯ শতাংশ করোনাভাইরাস হ্রাস পায়। গবেষণার তথ্যের ভিত্তিতে তারা দাবি করছেন, ২৫ সেকেন্ডের ভেতরে ‘২২এমজে/সেন্টিমিটার টু’র ডোজ ৯৯.৯৯৯৯ শতাংশ করোনা দূর করবে।

ড. অ্যান্টনি গ্রিফিথস বলেন, ‘আমাদের পরীক্ষার ফলাফল দেখায়, ইউভি-সি রশ্মির একটি নির্দিষ্ট ডোজ প্রয়োগে ভাইরাসগুলো সম্পূর্ণরূপে নিষ্ক্রিয় ছিল। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে আমরা আর কোনো ভাইরাস শনাক্ত করতে পারিনি। আমরা এই অনুসন্ধানগুলো নিয়ে উত্তেজিত। আশা করি এমন পণ্যগুলোকে উন্নত করতে ত্বরান্বিত করবে যা করোনার বিস্তারকে সীমাবদ্ধ করতে সহায়তা করতে পারে।’

এই রশ্মি যেমন আশার খবর শুনিয়েছে, তেমনই আতঙ্কের খবরও শুনিয়েছে। এই রশ্মি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার করতে গেলে হিতে বিপরীত হতে পারে। নিরাপদে ইউভি-সি ব্যবহার করতে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ, বিশেষ ধরনের সরঞ্জাম এবং প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। হাত বা ত্বকের অন্য কোনো অংশ জীবণুমুক্তকরণ করতে ইউভি লাইট ব্যবহার করা লোকদের নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (ডাব্লুএইচও)।

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহীমের বিক্রিত ব্যাটের অর্থ দিয়ে বগুড়ায় করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার জন্য চারটি বুথ খোলা হয়েছে। বুধ খোলার পরপরই বগুড়া সদর উপজেলার অর্ধশতাধিক মানুষ তাদের নমুনা দেন। নমুনা দেন সাংবাদিকরাও।

সম্প্রতি বগুড়ায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে গেলে নমুনা পরীক্ষা করতে গিয়ে হিমশিম খান বগুড়া সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সামির হোসেন মিশু। ঠিক এ সময়ই জাতীয় দলের ক্রিকেটার মুশফিকুর রহীম তার নিজ এলাকার মানুষের করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য নিরাপদে নমুনা সংগ্রহ করতে আর্থিকভাবে অনুদান দেন।

মুশফিকুর রহীমের অর্থায়নে বগুড়া সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে ১টি ডক্টর সেফটি চেম্বার, ৩টি করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহের বুথ স্থাপন করা হয়। এর মধ্যে একটি বুথ স্থাপন করা হয়েছে শহরের সেউজগাড়ির রাবেয়া নার্সিংয়ের সামনে।

বুথগুলোর উদ্বোধন করেন বগুড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও বগুড়া চেম্বারের সভাপতি মাছুদুর রহমান মিলন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বগুড়া সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সামির হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলের ক্রিকেটার তৌহিদ হৃদয়, তানজিদ তামিম, সাবিত হোসাইন, এডনিস তালুকদার বাবু, ডা. মিজানুর রহমান, ডা. ইফতেখার হায়দার খান, ডা. মনিরুজ্জামান, ডা. ইশরাত জাহান জান্নাতি, ডা. নিশাত তাসনিম, মাছুদুর রহমান বাপ্পি, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পরিষদ সভাপতি মোজাফ্ফর হোসেন বাদল, সাধারণ সম্পাদক সুজিত কুমার তালুকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক আল আমিন, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রধান সহকারি কাম হিসাবরক্ষক মোছা. শামীমা আকতার, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই) মোতাহার হোসেন, শফিউজ্জামান, কম্পিউটার অপারেটর রঞ্জন কুমার দাস, নান্নু মিয়াসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ‘বগুড়ায় জন্ম নেয়া জাতীয় দলের ক্রিকেটার মুশফিকুর রহীম শুধু করোনাভাইরাস পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহের বুথই স্থাপন করেননি, তিনি সদর উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও কর্মীদের পিপিই, গ্লাভস, হেড কাভারসহ স্বাস্থ্য সামগ্রী, লকডাউনে থাকা ৩৫০ পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন। এছাড়া তিনি আরেক ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের নামে প্রতিষ্ঠিত সাকিব আল হাসান ফাউন্ডেশন থেকে ৩৫০টি পরিবারের জন্য খাবারের ব্যবস্থাও করেন।

Check Also

বিয়ের দিন মেয়েরা জা নিয়ে চিন্তায় থাকে

বিয়ে নিয়ে ছেলে মেয়ে উভয়েরই চিন্তা বা টেনশন থাকে তু’ঙ্গে। জীবনের প্রথম একটি বড় পদক্ষে’প …