Home / সারাদেশ / সারা শরীরে রক্তের দাগ, জীবনের শেষ মুহূর্তে বাড়ি ছাড়া মা

সারা শরীরে রক্তের দাগ, জীবনের শেষ মুহূর্তে বাড়ি ছাড়া মা

সম্পত্তির জন্য বিধবা বৃদ্ধা মাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন ছেলে ও পুত্রবধূ। এ ঘটনায় ছেলে সোহেল খান কলিন ও তার স্ত্রী সানিয়া আক্তারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মা। তবে মামলা নেয়নি পুলিশ।

উল্টো মারধরের শিকার ভুক্তভোগী মাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেন ছেলে। থানায় যাওয়ায় মাকে প্রতিনিয়ত হ'ত্যার হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ ভুক্তভোগীর। বাধ্য হয়ে আদালতে মামলা করেন মা।

ঘটনাটি ঘটেছে কেরানীগঞ্জের নজরগঞ্জ এলাকায়। ১৪ সেপ্টেম্বর সম্পত্তির লোভে মাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন ছেলে কলিন ও তার স্ত্রী। স্বজনরা আহত মাকে উদ্ধার করে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতলে ভর্তি করেন।

ভুক্তভোগী দুই সন্তানের জননীর নাম সুফিয়া খাতুন। চার মাস আগে স্বামী মারা গেছেন। তাই জীবনের শেষ সময়টুকু কাটাতে চেয়েছিলেন স্বামীর রেখে যাওয়া খাঁন ভিলায়। কিন্তু তার নামে থাকা বাড়িটি ছেলের নামে লিখে দেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে চাপ দিচ্ছিলেন ছেলে কলিন। বাড়িটি লিখে না দেওয়ায় কলিন ও তার স্ত্রী সানিয়া আক্তার শারীরিক অত্যাচার করছিলেন।

ভুক্তভোগী মা বলেন, চার মাস আগে স্বামী মারা যাওয়ার আগে আমার নামে বাড়িটি লিখে দিয়ে যান। এরপর থেকে জোর করে দিন দিন নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছেন ছেলে ও ছেলের বউ। কেউ বাধা দিতে এলে তাকেও গালিগালাজ ও হ'ত্যার ভয় দেখান। পরিবারের সম্মানের কথা ভেবে অত্যাচারের বিষয়ে এতদিন কাউকে বলিনি।

সম্পদের লোভে আমাকে ছেলে ও ছেলের বউ নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দেন। সারা শরীরে আঘাতে র'ক্তাক্ত হয়ে যায়। বাড়ি লিখে নেয়ার জন্য‌ ১০-১২ জন অপরিচিত লোক দিয়ে আমাকে মারধর করেন ছেলে ও ছেলের বউ। সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ করতে গেলে বিষয়টি আমলে না নিয়ে উল্টো মিথ্যা মামলা দিয়ে দেয় পুলিশ।

স্থানীয়রা জানায়, জোর করে বাড়ির সম্পদ ও ভাড়া একাই ভোগের জন্য সোহেল খান কলিন ও তার বউ প্রভাব খাটিয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সহায়তায় বাড়ির মালিক বিধবা বৃদ্ধা মাকে মারধর করেন। মা খুবই নিরীহ মানুষ। তবে তার স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে পরিবারের সম্পদ ভাগাভাগি নিয়ে ঝগড়াবিবাদ হয়। তবে নির্মমভাবে মাকে আঘাত করে বাড়ি থেকে বের করে দেন ছেলে ও ছেলের বউ। এগুলো কোনো ভালো মানুষের কাজ নয়। তার বিচার হওয়া উচিত।

ক্যামেরার সামনে এ ব্যাপারে কোনো কথা বলার অনুমতি নেই বলে বিষয়টি এড়িযে যান কেরানীগঞ্জে মডেল থানার ওসি আবু সালাম মিয়া।

Check Also

সাইদুরের মাথাটার কিছুই ছিল না, হেলমেটটা ছিল অক্ষত

স্ত্রী রুনু, সঙ্গে দেড় বছরের সন্তান রেহান ও ৯ বছরের রোহান—সবাইকে বেশ অনিশ্চয়তার মুখে ফেলে …