Home / সারাদেশ / রাতে তরুণীর চিৎকার, অটোর পিছু নিয়ে বাঁচালেন ডিএসবি কর্মকর্তা

রাতে তরুণীর চিৎকার, অটোর পিছু নিয়ে বাঁচালেন ডিএসবি কর্মকর্তা

রাত তখন সাড়ে ১০টা। রিকশার জন্য অপেক্ষা করছেন এক তরুণী। হঠাৎ তাকে একটি অটোরিকশায় তুলে অজানার উদ্দেশ্যে রওনা হন তিন-চারজন লোক। কিছু দূর গেলেই সামনে পড়ে একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজ। সেখানেই বসা ছিলেন ডিএসবির এক এএসআই। অটোরিকশায় তরুণীর চিৎকার শুনে সন্দেহ হয় তার।

সময় নষ্ট না করে মোটরসাইকেলে অটোরিকশাটি ধাওয়া করেন তিনি। একপর্যায়ে অটোরিকশাসহ ওই তরুণীকে উদ্ধার করেন ডিএসবির এ কর্মকর্তা।

মঙ্গলবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে নেত্রকোনা পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের সামনে। ডিএসবির এএসআইয়ের নাম ছিদ্দিকুর রহমান। নেত্রকোনা পৌরশহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে অটোরিকশায় তুলে ময়মনসিংহের দিকে রওনা হন দুর্বৃত্তরা।

অপহরণের শিকার তরুণী জানান, তার বাড়ি নেত্রকোনা সদর উপজেলার চল্লিশা ইউনিয়নের লাইট চরপাড়া গ্রামে। তার বাবার নাম আব্দুর বারেক।

তিনি জানান, চল্লিশার আত্মীয়ের বাসা থেকে জেলা শহরের কাটলী এলাকায় ভাড়া বাসায় ফিরছিলেন তিনি। ঢাকা বাসস্ট্যান্ডে এসে রিকশার জন্য দাঁড়িয়ে ছিলেন।

খবর পেয়ে ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন নেত্রকোনা মডেল থানার এসআই নাজমুল হাসান। তিনি জানান, মেয়েটিকে তার পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। অপহরণ চেষ্টায় ব্যবহৃত অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়েছে। কারা এর সঙ্গে জড়িত খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে।

ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, পৌর শহরের পারলা এলাকায় মহাসড়কের পাশের একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজের সামনে বসে ছিলাম। এ সময় অটোরিকশা থেকে এক তরুণীর চিৎকার শুনে সন্দেহ হয়। পরে অটোরিকশার পিছু নেই। একপর্যায়ে পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের সামনে গিয়ে গাড়িটির গতিরোধ করি। একপর্যায়ে ওই তরুণীকে ফেলে অটোরিকশা নিয়ে উল্টো পথে শ্রীধরপুরের দিকে পালিয়ে যান দুর্বৃত্তরা। পরে আবারো পিছু ধাওয়া করে একটি জঙ্গলে পরিত্যক্ত অবস্থায় অটোরিকশাটি পাওয়া যায়। তবে কাউকে আটক করা যায়নি।

তিনি আরো জানান, একটি নারীকণ্ঠের চিৎকার শুনে দেখতে পান অটোরিকশা থেকে নামার জন্য এক তরুণী প্রাণপণ চেষ্টা করছেন। তার এক পা অটোরিকশার বাইরে ছিল। বিপদের আশঙ্কা বুঝতে পেরে তাদের পিছু নেন তিনি।

নেত্রকোনা মডেল থানার মঙ্গলবার রাতের ডিউটি অফিসার এসআই নাজমুল হক বলেন, উদ্ধার করা তরুণীকে তার বাবা বারেক মিয়ার কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

Check Also

সাইদুরের মাথাটার কিছুই ছিল না, হেলমেটটা ছিল অক্ষত

স্ত্রী রুনু, সঙ্গে দেড় বছরের সন্তান রেহান ও ৯ বছরের রোহান—সবাইকে বেশ অনিশ্চয়তার মুখে ফেলে …