Home / Daily Health Tips / রাজধানীতে ‘শিয়ালখেকো’ পরিবারের সন্ধান, মোহাম্মদপুরজুড়ে আতঙ্ক

রাজধানীতে ‘শিয়ালখেকো’ পরিবারের সন্ধান, মোহাম্মদপুরজুড়ে আতঙ্ক

শিয়াল বা শৃগাল। দক্ষিণ এশিয়া, ইউরেশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকায় এদের দেখতে পাওয়া যায়। এদেরকে ফেউ এবং গিধড় ‘ইয়াল’ও বলা হয়ে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশে শিয়াল নামটি শুনলে একটা ভয় কাজ করে। তবে জেনে অবাক হবেন রাজধানীতে এমন এক পরিবার সন্ধান পাওয়া গেছে যারা শিয়াল মেরে মাংস খেয়ে থাকে।

জানা গেছে, রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলার গার্ডেন সিটি বটতলা এলাকায় বসবাস করে ওই পরিবার। তাদের মাংস কাটার দক্ষতা দেখে বুঝাই যায়, তারা প্রায়ই শিয়াল শিকার করে। এমন ঘটনা জানাজানি হলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে এলাকাবাসীর মধ্যে।

ডেইলি বাংলাদেশের অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওই পরিবারটির থাকার জায়গা না থাকায় বসিলার গার্ডেন সিটি বটতলা এলাকায় তাইজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির জমিতে টিনের ঘর করে থাকেন তারা। সেই ঘরে গেলে বেরিয়ে আসে ‘থলের বিড়াল’।

বাড়িতে লুকিয়ে রাখা শিয়ালের পা, মাথা, চামড়া

অনুসন্ধানের শুরুতেই একটি বালতিতে কাটা মাংস চোখে পড়ে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে শাহ আলম নামের একজন স্বীকার করেন মাংসগুলো শিয়ালের। তারা সেগুলো খাওয়ার জন্য কেটে রেখেছেন। পরে একে একে উদ্ধার করা হয় বাড়িতে লুকিয়ে রাখা শিয়ালের পা, মাথা, চামড়াসহ শিয়াল কাটার কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জামাদি।

পাঠক ঘটনা যদি এখানেই শেষ ভেবে থাকেন তাহলে ভুল করবেন। অপরাধীরা নিজেদের অপরাধ ধামাচাপা দিতে জেরার মুখে বলে, শিয়ালের মাংস তারা কবিরাজের কাছে ৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি করেন। পরে কবিরাজরা সেটি শুকিয়ে নিজেদের কাজে লাগান বলে জানান শাহ আলম।

গোপনে ধারণকৃত শিয়াল কাটার ছবি

এদিকে জমির মালিক তাইজুল ইসলাম এমন ঘটনা জানার পরে বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। যেহেতু তারা এখানে থাকে তাই এ ঘটনার সমস্ত দায়ভার তাদেরই নিতে হবে।

এদিকে এলাকাবাসীরা বলছে, বসিলার গার্ডেন সিটিতে এক সময় অনেক শিয়াল থাকলেও দিনে দিনে কমে যাচ্ছে সেই সংখ্যা। নির্বিচারে শিয়াল শিকার করার কারণেই এমনটা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, এ কারণে হারাতে বসেছে জীববৈচিত্র্যও।

এ ঘটনায় এক নারীসহ দু’জনকে আটক করে পুলিশ থানা হেফাজতে নিয়ে যায়। পরে ভ্রমমাণ আদালতের মাধ্যমে শাহ আলমকে ১৫ দিন এবং নাসিরকে ৭ দিনের কারাদণ্ড দেন ঢাকা মহানগরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জিব দাস।

কবিরাজি চিকিৎসায় শিয়ালের মাংসের ব্যবহার কতটুকু যুক্তিসঙ্গত?- নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কবিরাজের কাছে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, বাত-ব্যথা কিংবা কঠিন রোগের প্রতিষেধক হিসেবে শিয়ালের মাংস রান্না করে খাওয়ার বিকল্প নেই। এসব ক্ষেত্রে শিয়ালের মাংসই অব্যর্থ ওষুধ।

তবে চিকিৎসকরা বলছেন ভিন্ন কথা। তারা বলছেন- শিয়াল খেয়ে কখনোই কোনো রোগ ভাল হয় না, এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। বাত-ব্যথা কিংবা কঠিন রোগের প্রতিষেধক হিসেবে শিয়ালের মাংস রান্না করে খাওয়ার বৈজ্ঞানিক কোনো ভিত্তি নেই। বিক্রি ও ক্রয় করাও আইনত ঠিক নয়।

বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, লাইসেন্স ও পার্মিটপ্রাপ্ত ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কারো কাছ থেকে কোন বন্য প্রাণী, বন্যপ্রাণীর অংশ, অথবা তা থেকে উৎপন্ন দ্রব্য ক্রয়, বিক্রয়, আমদানি-রফতানি করা হয়, আর যদি অপরাধ প্রমাণিত হয় তাহলে সর্বোচ্চ এক বছরের, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে। একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটলে তিন বছরের সাজা অথবা সর্বোচ্চ দুই লক্ষ টাকা জরিমানা হতে পারে।

Check Also

নারী চিকিৎসকের সঙ্গে ‘আপত্তিকর’ অবস্থায় যুবক, দরজায় তালা

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক নারী মেডিকেল অফিসার ও তথ্যপ্রযুক্তি কর্মকর্তা (সহকারী প্রোগ্রামার) কাজী …