Home / সারাদেশ / রক্ত দিতে গিয়ে হওয়া বন্ধুর গলায়-ঘাড়ে কুপিয়ে লাশ ভাসিয়ে দেন নদীতে

রক্ত দিতে গিয়ে হওয়া বন্ধুর গলায়-ঘাড়ে কুপিয়ে লাশ ভাসিয়ে দেন নদীতে

র'ক্ত দিতে গিয়ে আমিনুর রহমান ও ফয়সাল সরদারের পরিচয়। এরপরই বন্ধুত্ব। মাত্র আটদিনের বন্ধুত্বে একে-অপরের বিশ্বস্ত হয়ে ওঠেন। কিন্তু বড়লোক বাবার সন্তান হওয়াই আমিনুরের কাল হলো। প্রেমিকার দেওয়া শর্ত ‘আর-১৫’ কেনার টাকার জন্যই আমিনুরকে নৃশংসভাবে হ'ত্যার পর নদীতে লা'শ ভাসিয়ে দেন ফয়সাল।

অবশেষে কপোতাক্ষ নদে মিলল সেই আমিনুর রহমানের লা'শ। ফয়সালের তথ্যমতেই বুধবার সকাল ৯টার দিকে খুলনার পাইকগাছা উপজেলার আগড়ঘাটা বাজার এলাকায় কপোতাক্ষ নদ থেকে আমিনুরের লা'শ উদ্ধার করে পুলিশ। তবে তিনদিন খোঁজাখুঁজির পর তার লা'শটির সন্ধান মেলে।

নিহত ১৯ বছর বয়সী আমিনুর উপজেলার কপিলমুনির শ্যামনগর গ্রামের ছুরমান গাজীর ছেলে। তিনি কপিলমুনি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। আটক ফয়সাল পাইকগাছার গদাইপুর গ্রামের জিল্লুর রহমানের ছেলে।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার আমিনুরের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন আমিনুরের বাবা ছুরমান গাজী। মামলার পর ফয়সালকে গ্রেফতার দেখিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়। আদালতে হ'ত্যার বর্ণনা দিয়ে জবানবন্দি দেন তিনি। তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন বিচারক মো. মনিরুজ্জামান।

পাইকগাছা থানার ওসি মো. জিয়াউর রহমান জানান, রংপুরে কাজ করতেন ফয়সাল। কাজের সুবাদে সেখানে থাকায় এক তরুণীর সঙ্গে তার সম্পর্কে গড়ে ওঠে। সম্পর্ক ধরে রাখার জন্য তাকে আর-১৫ কেনার জন্য চাপ দিতে থাকেন প্রেমিকা। এর মধ্যেই একটি অপকর্মের জন্য ফয়সালকে চাকরি হারাতে হয়। এরপর গ্রামের বাড়ি চলে আসেন তিনি।

ফয়সাল গ্রামে এলেও মাথায় ঘুরতে থাকে প্রেমিকার দেওয়া ওয়াদা। কী করবেন ভেবে পারছিলেন না। টাকার জন্য বড়লোকের ছেলেকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করতে থাকেন তিনি। পরিকল্পনা অনুযায়ী ধনীর দুলালের খোঁজও পান।

আমিনুরের পরিচিত একজনকে র'ক্ত দেওয়ার সুবাদে সম্পর্ক হয় ফয়সালের সঙ্গে। আটদিনের পরিচয়ে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। হ'ত্যাকাণ্ডের আগের দিন রাতে আমিনুরকে হ'ত্যার পরিকল্পনা করেন ফয়সাল। কিন্তু ভেবেছিলেন হ'ত্যার চেয়ে অপহরণ করে মুক্তিপণ নিয়ে ছেড়ে দেবেন।

ঘটনার দিন (৭ নভেম্বর) রাত সাড়ে আটটার দিকে আমিনুরকে মোবাইল ফোনে ডেকে নেন ফয়সাল। বন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে পাইকগাছা উপজেলার আড়ংঘাটা বাজারের পাশে কপোতাক্ষ নদের তীরে মিলিত হন দুজন। ওই সময় তাকে জুসের সঙ্গে ১৪টি ঘুমের ওষুধ খাওয়ান। এরপর দুই বন্ধু মিলেই ধুমপান করেন। ধীরে ধীরে আমিনুরও অচেতন হয়ে পড়েন। আর এ সুযোগে বন্ধুর গলায় কোপ দেন ফয়সাল। এতে চিৎকার দিলে ঘাড়ে আরেকটি কোপ দেন।

পরে আমিনুরের মৃত্যু নিশ্চিত করে লা'শটি টেনেহিঁচড়ে নদীতে ফেলে দেন ফয়সাল। এরপর আমিনুরের মুঠোফোন দিয়েই রাত ১০টার দিকে বাবা ছুরমান গাজীর কাছে দশ লাখ টাকা মুক্তিপণ চান তিনি। মুক্তিপণের টাকা পাইকগাছা সেতুর নিচে রাখতে বলা হয়। অপহরণকারীর কথামতো টাকা নিয়ে পাইকগাছা সেতুর নিচে আসেন ছুরমান গাজী। তবে কিছু টাকা রেখেই দূর থেকে পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। এরপর সেতুর নিচ থেকে টাকা নিয়ে ফেরার সময় ফয়সালকে ধরে পুলিশে দেন আমিনুরের বাবা।

আটকের পর ফয়সালের স্বীকারোক্তিতে সোমবার দুপুরে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। তবে ঘটনাস্থলে র'ক্তের দাগ পেলেও আমিনুরের লা'শের সন্ধান মেলেনি। তিনদিন খোঁজাখুঁজির পর বুধবার তার লা'শ মেলে কপোতাক্ষ নদে।

Check Also

কলেজছাত্রকে তুলে নিয়ে হাতুড়ি ও রড দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত

ঝালকাঠির রাজাপুরে সিফাতুল ইসলাম তামিম নামে এক কলেজছাত্রকে তুলে নিয়ে হাতুরি ও রড দিয়ে পিটিয়ে …