অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি লিগ স্পিনার শেন ওয়ার্ন ‘সন্দেহজনক’ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫২ বছর। তবে মৃত্যুর ১২ ঘণ্টা আগেই অস্ট্রেলিয়ার আরেক কিংবদন্তি ক্রিকেটারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছিলেন ওয়ার্ন।
শেন ওয়ার্ন তার সেই টুইটে লিখেন, ‘‘রোড মার্শ মৃত্যুর খবর আমাদের ব্যথিত করেছে। তিনি আমাদের দেশের অনেক ছেলে-মেয়েদের খেলার অনুপ্রেরণের জন্য উজ্বল উদাহরণ ছিলেন। রোড খুব গভীরভাবে ক্রিকেটকে সময় দিয়েছেন এবং তিনি অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডকে অনেক এগিয়ে নিয়েছেন। আমার পক্ষ থেকে রোজ ও তার পরিবারের প্রতি অনেক ভালোবাসা। রিপ মেইট (সহকর্মী)।’’
এর আগে, ফক্স স্পোর্টসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শেন ওয়ার্ন থাইল্যান্ডের কোহ সামুইতে নিজ বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তার ব্যবস্থাপনা কমিটি জানায়, শেন ওয়ার্নকে তার ভিলায় অচেতন অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং চিকিৎসাকর্মীদের সর্বোচ্চ চেষ্টার পরও তাকে বাঁচানো যায়নি।
শেন ওয়ার্নের মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে গোপনীয়তার অনুরোধ করেছে তার পরিবার। পরবর্তীতে তার মৃত্যুর ব্যাপারে বিস্তারিত জানাবে শেনের পরিবার।
অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে শেন ওয়ার্নের অবদান অবিস্মরণীয়। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে ১৫ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ৭০৯টি টেস্ট উইকেট নিয়ে তে সর্বোচ্চ ও মুত্তিয়া মুরালিধরনের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি তিনি।
ওয়ানডে ক্রিকেটে ২৯৩টি উইকেট নেন শেন ওয়ার্ন। অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে সবমিলিয়ে ৩০০-এর বেশি ম্যাচ খেলার কীর্তি রয়েছে তার। অ্যাশেজের ইতিহাসেও সর্বোচ্চ উইকেট শিকারও তার দখলে।
১৯৯২ সালে সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে টেস্ট অভিষেক হওয়ার পর দলের মূল অস্ত্র হয়ে উঠেন তিনি। ১৯৯৯ বিশ্বকাপজয়ী অস্ট্রেলিয়া দলের সদস্য ছিলেন এ ডানহাতি লেগ স্পিনার। এছাড়া ১৯৯৩ থেকে ২০০৩, এই ১০ বছরে পাঁচবার অ্যাশেজজয়ী অজি দলের সদস্য ছিলেন তিনি। শেন ওয়ার্ন তার ক্রিকেট ক্যারিয়ারে ঘূর্ণি জাদুঘরসহ নানা উপাধিতে ভূষিত ছিলেন। ক্রিকেট বিশ্বে তাকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ লেগ স্পিনার হিসেবে বিবেচনা করা হয়।