Home / সারাদেশ / ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই সন্তান রেখে প্রবাসীর স্ত্রী ঘরছাড়া, এরপর

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই সন্তান রেখে প্রবাসীর স্ত্রী ঘরছাড়া, এরপর

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে নিখোঁজের ৬ মাস পর দুই সন্তানের জননী ও ইতালি প্রবাসীর এক স্ত্রীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুরে কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার ভৈরব বাজার থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। রোববার বিকেলে পুলিশ গৃহবধূকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল-আমীনের আদালতে সোপর্দ করলে ওই গৃহবধূ ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী প্রদান করেন।

জানা যায়, ৩৩ বছর বয়সী ওই গৃহবধূর বাবার বাড়ি সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউপির বিটঘর গ্রামে ও শ্বশুর বাড়ি একই ইউপির বলিবাড়ি গ্রামে। তার স্বামী ইতালি প্রবাসী। দাম্পত্য জীবনে তাদের ১০ বছর বয়সী এক ছেলে ও ৮ বছর বয়সী এক কন্যা সন্তান রয়েছে। স্বামী বিদেশ থাকার কারণে ওই গৃহবধূ তার দুই সন্তান নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস করতেন। গত ২১ এপ্রিল ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে গিয়ে নিখোঁজ হন ওই গৃহবধূ। এ ঘটনায় গৃহবধূর বাবা পরদিন সরাইল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

অভিযোগে গৃহবধূর বাবার দাবি, তার মেয়েকে শ্বশুর বাড়ির লোকেরা অপহরণের পর হ'ত্যা করে লা'শ গুম করে ফেলে।

অন্যদিকে একই অভিযোগে গৃহবধূর বাবার বাড়ির লোকদের বিরুদ্ধে থানায় পাল্টা মামলা করেন তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন। অবশেষে নিখোঁজের ১৭৫ দিন পর গৃহবধূকে উদ্ধার করে পুলিশ।

জানা যায়, আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দীতে গৃহবধূ জানান, আনুমানিক ১২ বছর আগে তার বিয়ে হয়। তাদের একটি ছেলে ও একটি কন্যা সন্তান আছে। গত ৯ বছর ধরে তার স্বামী ইতালিতে থাকেন। স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক ও মানসিকভাবে তিনি সুখী ছিলেন না। স্বামী প্রায়ই ফোনে তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতো ও মানসিকভাবে চাপ দিতো। স্বামীর ওপর তিনি সন্তুষ্ট ছিলেন না। তাই স্বামীকে তালাক না দিয়েই তিনি গত ২১ এপ্রিল বাবার বাড়ি থেকে পালিয়ে স্বেচ্ছায় ঢাকা চলে যান। সেখানে গিয়ে তেজগাঁওয়ে একটি ভাড়া বাসায় উঠেন ও নোয়াখালী জেলার সদর উপজেলার পশ্চিম চর উড়িয়া গ্রামের আবুল কালামের ছেলে মো. সোহেলকে বিয়ে করেন। সোহেলকে তিনি নোটারি পাবলিকের কার্যালয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। কেউ তাকে অপহরণ করেনি।

জানা যায়, গত শনিবার রাতে নিখোঁজ ওই গৃহবধূ তার বাবাকে ফোন করলে তার বাবা বিষয়টি সরাইল থানা পুলিশকে অবহিত করেন। পরে পুলিশ মোবাইল ট্যাকিংয়ের মাধ্যমে তাকে কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব বাজার থেকে উদ্ধার করে সরাইল থানায় নিয়ে আসে। পরে উদ্ধারকৃত গৃহবধূর বাবা ও শ্বশুর বাড়ির লোকদের খবর দেয়া হয়। পরে ওই গৃহবধূ জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে স্বীকার করেন তাকে কেউ গুম কিংবা অপহরণ করেনি, তিনি স্বেচ্ছায় গৃহ'ত্যাগ করেছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মোল্লা শাহীন জানান, ওই গৃহবধূ স্বেচ্ছায় বাড়ি থেকে পালিয়ে এক যুবককে বিয়ে করে ঘর সংসার করছিলেন। শনিবার রাতে ভৈরবে এসে বাবাকে ফোন দিলে, ফোনের সূত্র ধরে তাকে কিশোরগঞ্জের ভৈরব বাজার থেকে উদ্ধার করে আদালতে সোপর্দ করা হয় এবং তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

Check Also

সাইদুরের মাথাটার কিছুই ছিল না, হেলমেটটা ছিল অক্ষত

স্ত্রী রুনু, সঙ্গে দেড় বছরের সন্তান রেহান ও ৯ বছরের রোহান—সবাইকে বেশ অনিশ্চয়তার মুখে ফেলে …