Home / সারাদেশ / বাড়িজুড়ে ২৬ ক্যামেরা লাগিয়ে পরিবারের ৪ সদস্যকে হ”ত্যা করে আসিফ, ঘরেই বানায় কফিন

বাড়িজুড়ে ২৬ ক্যামেরা লাগিয়ে পরিবারের ৪ সদস্যকে হ”ত্যা করে আসিফ, ঘরেই বানায় কফিন

পরিবারের চার সদস্যকে খুনের অভিযোগে আসিফ মোহাম্মদ নামে ১৮ বছরের এক তরুণকে গ্রেফতার করেছে ভারতীয় পুলিশ। জেরায় একাধিক বিস্ফোরক দাবি করেছেন আসিফ ও তার বড় ভাই। যা শুনে শিউরে উঠছেন তদন্তকারীরাও।

পশ্চিমবঙ্গের মালদার কালিয়াচকে একই পরিবারের চার জনের খুনের ঘটনায় উঠে এসছে চাঞ্চল্যকর এ তথ্য।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে পরিবারের ছোট ছেলে আসিফ মোহাম্মদ জানিয়েছে, মা-বাবাসহ পরিবারের অন্যান্যদের খুনের পর দেহ গায়েব করতে কফিন বানিয়েছিল সে। এমনকী সেই কফিনে জীবিত অবস্থায় বাবা-মাকে ঢুকিয়ে মুখে সেলোটেপ লাগিয়ে দেয় সে।

গতকাল শুক্রবার রাতে কালিয়াচকের শোলপাই গ্রাম থেকে আসিফকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, এলাকায় বেশ বিত্তবান বলে পরিচিত আসিফের পরিবার। কিন্তু মাস ছয়েক আগে বাড়ি ও লাগোয়া দেড় বিঘা জমি বাদ দিয়ে বাকি সমস্ত জমি-জায়গা বিক্রি করে দেন আসিফের বাবা। এরপর বাড়ির ভিতরে তৈরি করা হয় একটি গোডাউন। এরই মধ্যে এলাকা ছাড়ে আসিফের বড় ভাই। কলকাতায় চলে যায় সে।

কিন্তু এসব ঘটনাক্রমের কারণ কী তা জানতে পারেননি প্রতিবেশীরা। কারণ এলাকায় কারো সঙ্গে তেমন কথাই বলতেন না পরিবারের সদস্যরা। আসিফ থাকত বাড়ির দোতলায় নিজের ঘরে। সেখান থেকে খুব বেশি বের হতোও না সে। এমনকী ওই ঘরে বাড়ির লোকেদেরও প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, আসিফের বড় ভাই তাদের জানান। মাস কয়েক আগে বাড়িতে কয়েকটি কফিন বানায় আসিফ। সেই কফিনে বাবা-মা-কে ঢুকিয়ে সেলোটেপ পেঁচিয়ে দেয় সে। সেই দৃশ্য দেখে ফেলেন তিনি। এর পর তাকে খুনের হুমকি দেয় আসিফ। ভয়ে পালিয়ে কলকাতা চলে যান আসিফের বড় ভাই।

আসিফের বাড়িতে মোট ২৬টি সিসিটিভি ক্যামেরার হদিশ পেয়েছেন পুলিশকর্মকর্তারা। কিন্তু এত সিসিটিভি ক্যামেরা কেন? প্রতিবেশীদের আসিফের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল অত্যাধুনিক অ্যাপ তৈরির জন্য এতগুলো সিসিটিভি লাগিয়েছিল সে।

শুক্রবার শোলপাই গ্রামের বাড়ির জলের ট্যাঙ্ক থেকে উদ্ধার হয়েছে চার জনের দেহাবশেষ। কী করে তাদের খুন করা হয়েছে জানতে সেগুলো ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, গত ফেব্রুয়ারি থেকে দেখা মিলছিলো না পরিবারের কারো। সবাই ভেবেছিলেন কর্মসূত্রে অন্য রাজ্যে চলে গিয়েছে পরিবারটি। প্রতিবেশীদের তেমনই জানিয়েছিল আসিফ। কিন্তু দিনকয়েক আগে আসিফের বড় ভাই বাড়ি এসে জানতে পারেন খোঁজ মিলছে না মা-বাবার। এরপরই পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।

পুলিশের অনুমান, অনলাইন দুষ্কৃতীচক্রের সঙ্গে যুক্ত আসিফ। তার মানসিক স্থিতিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

Check Also

গণপরিবহন চালুর বিষয়ে আসছে নতুন সিদ্ধান্ত

বিদ্যমান করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে চলমান বিধিনিষেধ আরো বাড়ানো হতে পারে। …