Home / সারাদেশ / বন্ধ টয়লেটে রক্তাক্ত স্কুলছাত্রী, ১০ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার

বন্ধ টয়লেটে রক্তাক্ত স্কুলছাত্রী, ১০ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার

ক্লাস ছুটির পর সবাই বাড়ি গেলেও বিদ্যালয়ের টয়লেটে আটকে থাকায় বাড়ি ফিরতে পারেনি বাকপ্রতিবন্ধী ছাত্রী শারমিন আক্তার। রাস্তায় ঘুরতে আসা এক তরুণের বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হলে রাত ১০টার পর টয়লেটের তালা ভেঙে র'ক্তাক্ত অবস্থায় ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়।

বৃহস্পতিবার চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার টামটা উত্তর ইউনিয়নের হোসেনপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কারো গাফিলতি পেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন ইউএনও শিরীন আক্তার।

স্থানীয়রা এ ঘটনাকে ১৯৮০ সালের শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘ছুটির ঘণ্টা’র সঙ্গে তুলনা করেছে। সেই চলচ্চিত্রে ১১ দিন পর স্কুলের বাথরুম থেকে উদ্ধার হয়েছিল ছাত্রের লা'শ আর এখানে ১০ ঘণ্টা পর ছাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা হল।

ওই ছাত্রীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কচুয়ার আশ্রাফপুর দক্ষিণপাড়া হাজি বাড়ির আনোয়ার হোসেনের কন্যা শারমিন আক্তার এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী। বাকপ্রতিবন্ধী হলেও পড়াশোনায় তার অনেক আগ্রহ। এজন্য দীর্ঘদিন পর স্কুল খোলা হওয়ায় এখন প্রতিদিন ক্লাসে হাজির হয় সে। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় বিদ্যালয় ছুটি হয়। তখন টয়লেটে প্রবেশ করে শারমিন। কিন্তু টয়লেট থেকে সে বের হওয়ার আগেই বিদ্যালয়ের আয়া শাহানারা আক্তার শানু বাইরে থেকে তালা মেরে দেন। বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় কাউকে ডাকতে না পেরে টয়লেটে আটকা পড়ে শারমিন।

ছুটির পর বাড়ি না ফেরায় শারমিনের পিতা তার সহপাঠী ও আত্মীয়ের বাড়িতে তাকে খুঁজতে থাকেন। কিন্তু কোথাও তার সন্ধান পাননি।

রাত ৯টার দিকে আল আমিন নামে স্থানীয় এক তরুণ বিদ্যালয়ের টয়লেট থেকে এক ধরনের আওয়াজ শুনতে পান। তিনি কিছুক্ষণ চেষ্টা করে বাথরুমে ওই ছাত্রীর উপস্থিতি শনাক্ত করেন। খবর পেয়ে এলাকার লোকজন জড়ো হয়ে স্কুল ও টয়লেটের তালা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে।

আল আমিন বলেন, রাতে ব্রিজের ওপর ঘুরতে গিয়ে বিদ্যালয়ের বাথরুমে শব্দ শুনতে পাই। মোবাইলের টর্চ জ্বেলে ভেন্টিলেটরের ফাঁকে মানুষের হাত দেখে প্রথমে ভূত ভেবে ভয় পাই। পরে এলাকার লোকজনকে ডেকে এনে তালা ভেঙে মেয়েটিকে উদ্ধার করি। উদ্ধারের সময় তার মুখের মাস্ক র'ক্তে ভেজা দেখতে পাই। আটকে পড়ার পর বারবার কথা বলার চেষ্টা করতে গিয়ে তার গলা থেকে র'ক্ত বের হয়ে থাকতে পারে।

বিদ্যালয়ের আয়া শাহানারা আক্তার শানু জানান, দুপুর সাড়ে ১২টায় নয়, তিনি বিকেল ৪টার দিকে বাথরুমের তালা বন্ধ করেছেন।

প্রধান শিক্ষক মো. আমীর হোসেন জানান, বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দাফতরিক কাজে বিদ্যালয়ে ছিলেন। বের হওয়ার আগে পর্যন্ত এমন কিছু তার নজরে পড়েনি। রাতে মুঠোফোনে ঘটনা জানতে পেরে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে ওই ছাত্রীর বাড়ি পাঠান।

ছাত্রীর বাবা আনোয়ার হোসেন বলেন, রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত অজানা আশঙ্কা নিয়ে মেয়েকে খুঁজেছি। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া, তিনি আমার মেয়েকে ফিরিয়ে দিয়েছেন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আহসান উল্যাহ চৌধুরী বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শাহরাস্তির ইউএনও শিরীন আক্তার বলেন, আমি ঘটনা শুনে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আহসান উল্যাহ চৌধুরীকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের কারো গাফিলতি পেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Check Also

সাইদুরের মাথাটার কিছুই ছিল না, হেলমেটটা ছিল অক্ষত

স্ত্রী রুনু, সঙ্গে দেড় বছরের সন্তান রেহান ও ৯ বছরের রোহান—সবাইকে বেশ অনিশ্চয়তার মুখে ফেলে …