Home / আন্তর্জাতিক / পিরিয়ড চলাকালে অন্তর্বাস পর্যন্ত দেওয়া হয়নি ফিলিস্তিনি তরুণীকে, ইসরায়েলি সেনাদের বর্বর নির্যাতন

পিরিয়ড চলাকালে অন্তর্বাস পর্যন্ত দেওয়া হয়নি ফিলিস্তিনি তরুণীকে, ইসরায়েলি সেনাদের বর্বর নির্যাতন

আৎ’কে উ’ঠার মতো ব’র্বর নি’র্যাতনের বর্ণণা দিলেন মায়েস আবু ঘোষ (২৪)। ফিলিস্তিনের পশ্চিমতীরের বিরজেইত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও মিডিয়া বিভাগের শিক্ষার্থী।

কালান্দিয়া শরণার্থী শিবিরের এ বাসিন্দাকে ২০১৯ সালের ২৯ আগস্ট গ্রে’ফতার করে ব’র্বর ইসরাইলি সেনাবাহিনী। এর পর তাকে সা’জা দেওয়ার আগে জিজ্ঞাসাবাদের নামে টা’না ৩৩ দিন নি’র্যাতন চা’লানো হয়, দেওয়া হয় ধ’র্ষণের হু’ম’কিও। সে নি’র্যাতনের বিষয় নিয়ে মায়েস কথা বলেছেন তুরস্কের গণমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির সঙ্গে।

মায়েস বলেন, আমাকে ধ’রে নেওয়ার পর তারা আমাকে নিয়ে ঠা’ট্টা শুরু করে দেয়। তারা বারবার বলছিল, জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালে আমার মৃ’ত্যু হবে।

যখন মায়েসকে ধ’রে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন তার পি’রিয়’ড চলছে। ধ’রে নেওয়ার পর চেয়ারের সঙ্গে মায়েসের হাত এবং গোড়ালি শ’ক্তভাবে বেঁ’ধে রাখা হয়। কোনোভাবে যেন মায়েস ঘুমিয়ে পড়তে না পারেন, সে ব্যবস্থাও করেন তারা।

মায়েস বলেন, এর পর আমি আর হাঁ’টার শ’ক্তি পা’চ্ছিলাম না। পরে জেলাররা ধ’রাধ’রি করে আমার জন্য নির্ধারিত জায়গায় নিয়ে যায়। হাত’কড়ার কারণে মায়েসের হাত থেকে অনবর’ত র’ক্ত ঝ’রেছে। এমন সময় মায়েসকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাওয়া হলে সে অস্বী’কৃত জানায়। এর পর তাকে অক’থ্য ভা’ষায় গা’লাগা’ল করেন ইসরাইলি সেনা কর্মকর্তারা।

মায়েস বলেন, তার পি’রিয়’ড চলাকালে তাকে কোনো ধ’রনের প্যা’ড বা অন্ত’র্বা’স পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। আল মাসকোবিয়া ইন্টারোগেশন সেন্টারে জিজ্ঞাসাবাদের নামে এভাবে তাকে ৩৩ দিন নি’র্যাতন করেন ইহুদি রাষ্ট্র ইসরাইলের ব’র্বর সেনাবাহিনীর সদস্যরা।এ সময় তার ওজন ১২ কেজি (২৬.৫ পাউন্ড) কমে যায়।

শরীরে ও মাথায় আ’ঘা’ত করা হয়েছে মায়েসকে। অস’হ্য ব্য’থা কমাতে ব্যথা’নাশক ও’ষুধ চান মায়েস। কিন্তু তাকে দেওয়া হয়নি পেই’ন কি’লার।জিজ্ঞাসাবাদের সময় মায়েসকে নি’র্যাতনের কারণে কারাগারে থাকা ব’ন্দিদের চিৎ’কার শুনতে বা’ধ্য করা হতো। এ সময় তাকে বলা হতো যে, তোমার জন্য তারচেয়েও ভ’য়ঙ্ক’র কিছু অপে’ক্ষা করছে।

মায়েস বলেন, নি’র্যাতন তো করেছেই, তারা আমাকে ধ’র্ষণ করার হু’মকিও দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের অবৈ’ধ সমাবেশে অংশ নেওয়ার অভি’যোগে সেই সময় মায়েসকে ১৬ মাসের কা’রাদ’ণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পরে ১৫ মাস কা’রাবাসের পর ২০২০ সালের ডিসেম্বরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

যে বিরজেইত বিশ্ববিদ্যালয়ে মায়েস পড়েন সে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বহুদিন ফিলিস্তিনি অঞ্চলে আ’ন্দোলন-সংগ্রামের কে’ন্দ্র ছিল। সে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৪১৪ শিক্ষার্থীকে ধ’রে নিয়ে গেছে ইসরাইল।

এ বিষয়ে মায়েস বলেন, বিশ্বজুড়ে শিক্ষার্থীরা নানা অসঙ্গ’তির বিরু’দ্ধে কথা বলেন। এটি অধিকার। কিন্তু আমরা এখানে বি’ক্ষো’ভ দে’খালে আমাদের গ্রে’ফতার করা হয়। এরপর ইসরাইলের জে’লে আমাদের অবর্ণনীয় নি’র্যাত’নের শি’কার হতে হয়।

বি’ক্ষোভে অংশ নেওয়ার কারণে আমাকে বলা হয়, আমার কৃতক’র্মের সাজা হিসেবে মৃ’ত্যু প্রাপ্য। তিনি জানান, আট’ক ফিলিস্তিনিদের জি’জ্ঞাসাবাদের সময় ভ’য় দেখানো হয় এই বলে যে, তাদের ঘরবাড়ি ধ্বং’স করে দেওয়া হবে এবং পরিবারের সদস্যদের গ্রে’ফতার করা হবে।

২০১৬ সালেই মায়েসের ঘর ধ্বং’স করে দেওয়া হয়। এর পর ইসরাইলি বাহিনী তার ভাইকে হ’ত্যা করে।

মায়েস বলেন, আমার ওপর চা’প বাড়াতে তারা আমার ছোট ভাইকে গ্রে’ফতার করে। জেলে কোনোভাবেই মায়েসকে চুল বাঁ’ধার সু’যোগ দেওয়া হয়নি। কেননা তাকে চুল ধ’রেই কি’লঘু’ষি ও মা’রধ’র করা হতো।

মায়েসকে এ ৩৩ দিন কারও সঙ্গেই যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি। অব্যাহত নি’র্যাতন চা’লানো হয়েছে তাকে। ইন্টারোগেশন সেন্টারের সেই দুঃ’সহ স্মৃ’তি আজও ব’হন করে চলেছেন ফিলিস্তিনি এ তরুণী।

Check Also

ম্যাক্রোঁকে চড় দেওয়া সেই যুবকের যে শাস্তি হতে পারে

জনসংযোগে গিয়ে এক যুবকের চড় খেলেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক …