Home / সারাদেশ / দারোগার শেখানো কথা স্বীকার করে পঞ্চমশ্রেণির শিক্ষার্থীর ২৬ বছর কারাভোগ!

দারোগার শেখানো কথা স্বীকার করে পঞ্চমশ্রেণির শিক্ষার্থীর ২৬ বছর কারাভোগ!

বিশেষ বিবেচনায় ৪ বছরের দণ্ড মওকুফের পর জেল থেকে মুক্ত হয়ে পেয়ারা দাবি করেছেন তিনি হত্যা করেননি। জমি নিয়ে তার বাবা আনিস মৃধার সাথে বড় চাচা জহুরুল হক মৃধার বিরোধের জের ধরে তাকে ফাঁসানো হয়েছে বলে দাবি করেন পেয়ারা।

পেয়ারা জানান, ঘটনা ১৯৯৫ সালে (তারিখ জানাতে পারেননি)। তখন তিনি পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। স্কুলে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যান তিনি। সেখানে হাজির হন এক দারোগা। চাচাতো বোন মেহেজাবিন আক্তারকে পুকুরে ফেলে হত্যার অভিযোগে মঠবাড়িয়া থানায় নিয়ে যান তিনি।

পেয়ারা আরও জানান, ‘বোনকে পুকুরে ফেলে দিয়েছি আমি’ এ কথা তাকে স্বীকার করতে বলা হয়। আরও বলা হয়, ‘এই সেখানে কথা না বললে আমাকে ছাড়া হবে না। আমি ভয় পেয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দারোগার শেখানো কথাই স্বীকার করি। আমি শেখানো কথা বলার পরও আমাকে ছাড়া হয়নি।’ এরপর জেল হয় ৩০ বছর।

পেয়ারা দাবি করেন, মেহেজাবিনের মৃত্যুর খবর দারোগার মুখেই প্রথম জানতে পারেন এবং এই মৃত্যুর সাথে তিনি জড়িত নন। ১৯৯৭ সালের ২৪ এপ্রিল তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত।

পিরোজপুর থেকে এরপর তাকে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে আসা হয়। এরপর ২৬ বছর কেটেছে এই কারাগারে। ২০২১ সালের ১০ জুন কারাগার থেকে মুক্তি পান পেয়ারা। ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ৫০ বছর উপলক্ষে বরিশালের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার বিশেষ বিবেচনায় পেয়ারার ৪ বছরের দণ্ড মওকুফ করেন। আর এ কারণে ৩০ বছর সাজা ভোগ করতে হয়নি তাকে।

আলাপকালে পেয়ারা আরও জানান, এত বছরে পুলিশের ওই দারোগার নাম মনে নেই। তবে দারোগার গায়ের রং ছিল কালো, আকারে মোটা এবং পান খেতেন বলে মনে পড়ে তার। জীবন থেকে এতগুলো বছর হারিয়ে আফসোস হয় পেয়ারার। এখন কিভাবে চলবেন বাকী দিনগুলো? এই প্রশ্নর জবাব খুঁজছেন তিনি।

পেয়ারার গ্রামের বাড়ি পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার মিরুখারী গ্রামের ছোট হারজি এলাকায়। বাড়িতে এখন ৮০ বছরের বৃদ্ধা মা আছেন। বড়বোন থাকেন শ্বশুরবাড়িতে। ভাই দিন মজুরি করেন। তিনিও থাকেন আলাদা। বাবা মারা গেছেন আগেই।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) বরিশালের জেলা প্রশাসক পেয়ারাকে একটি সেলাই মেশিন দিয়েছেন জীবিকা নির্বাহ করার জন্য।

জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার বলেন, পেয়ারাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। তাকে সেলাই মেশিন দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও তাকে একটা কাজ দেওয়ার জন্য চেষ্টা চলছে। তার জন্য যতটুকু সম্ভব তার পুরোটা করবে জেলা প্রশাসন।

Check Also

স্ত্রীর অনুরোধে লাইফ সাপোর্টে থাকা স্বামীর থেকে সংগ্রহ করা হল শুক্রাণু

করোনা আক্রান্ত স্বামী হাসপাতালে ভর্তি। রয়েছেন লাইফ সাপোর্টে। কিন্তু স্ত্রী চান সন্তান ধারণ করতে। সেই …