Home / এক্সক্লুসিভ / ডিভোর্সি পরিচয় দিয়ে প্রবাসীদের ৩০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় সাদিয়া

ডিভোর্সি পরিচয় দিয়ে প্রবাসীদের ৩০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় সাদিয়া

ডিভোর্সি পরিচয় দিয়ে প্রবাসীদের ৩০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় এসএসসি পাস সাদিয়া শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি পাস। দৃশ্যমান কোনো পেশাও নেই। অথচ সাদিয়া জান্নাত ওরফে জান্নাতুল ফেরদৌস প্রায়৩০ কোটি টাকার মালিক! তার একটাই পরিচয়, তিনি কানাডায় বসবাসরত ডিভোর্সি ও সন্তানহীন নারী।

কুমিল্লারদেবিদ্বারের মেয়ে সাদিয়া জান্নাত গত ১১ বছর ধরে পত্রিকায় ‘পাত্র চাই’ বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণা করে আসছিলেন। এসএসসি পাস না করলেও পোশাক এবং তার কথাবার্তায় স্মার্টনেসের কারণে কানাডা প্রবাসী বলে লোকজনের বিশ্বাস জন্মাতে সমর্থ হয়। অনেকেই তার ফাঁদে পড়ে খুইয়েছেন কোটি কোটিটাকা।

জান্নাতুল তার প্রথম স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে মিলে এই প্রতারণা শুরু করেন। ঢাকা ও এরআশপাশে তার ২০ কোটি টাকার সম্পত্তির খোঁজ পেয়েছে সিআইডি। গত ৯ জুলাই একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়া হয়। সেখানে লেখা ছিল, ‘প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী কানাডার সিটিজেন ডিভাের্সি সন্তানহীন বয়স ৩৭, ৫.৩ফুট লম্বা নামাজি পাত্রীর জন্য ব্যবসার দায়িত্ব নিতে আগ্রহী বয়স্ক পাত্র চাই।

যােগাযােগের জন্য ঠিকানা- বারিধারা’।সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ রেজাউল হায়দার বলেন, বিজ্ঞাপন দেখে মো. নাজির হোসেন প্রতারক সাদিয়া জান্নাতের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন। এক পর্যায়ে গত ১২ জুলাই গুলশান-১ থাই সিগনেচার রেস্টুরেন্টে দেখাকরেন। বিয়ের পর তাকে কানাডায় নিয়ে যাবেন। সেখানে তার ২০০ কোটি টাকার ব্যবসা দেখভাল করবেন। সাদিয়াজান্নাতের এসব কথায় বিশ্বাস করে ভুক্তভোগী প্রাথমিকভাবে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও পাসপোর্ট দেন।

পরে প্রতারক সাদিয়া জান্নাত জানায়, কানাডায় প্রচণ্ড শীত তাই, সেখান থেকে তার ২০০ কোটি টাকা ফেরত নিয়ে আসবেন। পরে দেশেই ব্যবসা করবেন।শেখ রেজাউল হায়দার জানান, ওই টাকা ডিএইচএল এর মাধ্যমে ফেরত আনতে ভুক্তভোগী নাজির হোসেনের কাছথেকে বিভিন্ন তারিখে সর্বমোট ১ কোটি ৭৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। পরে ফোন বন্ধ করে দেন। সাদিয়া জান্নাতের একটি হিসাবের খাতা উদ্ধার করেছে সিআইডি।

সিআইডির কর্মকর্তারা আরো জানান, সেখানে প্রায় ২৫ থেকে৩০ কোটি টাকার হিসাব আমরা পেয়েছি। তার চারটি ব্যাংক হিসাব রয়েছে। সেখানে আমরা ১ কোটি টাকা পেয়েছি।সংবাদপত্রে এমন চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণার অভিযোগের ভিত্তিতে ১৭ সেপ্টেম্বর তাকে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এসময় তার কাছ থেকে ভুক্তভোগীদের অনেক পাসপোর্ট, ১০টি মোবাইল ফোন, ৩টিমেমোরি কার্ড, ৭টি সিল, অসংখ্য সিম ও প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা টাকার একটি হিসাব বই উদ্ধার করা হয়।

Check Also

ভাবিকে বিয়ে করা কি জায়েজ?

দাম্পত্য সম্পর্কের গুরুত্ব বোঝাতে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেছেন, স্ত্রীরা তোমাদের ভূষণ এবং …