Home / সারাদেশ / কোরবানির পশু জবাইয়ের ছুরি দিয়ে আজহারুলকে হত্যা করেন ইমাম

কোরবানির পশু জবাইয়ের ছুরি দিয়ে আজহারুলকে হত্যা করেন ইমাম

আজহারুলকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেন স্ত্রী আসমা আক্তার ও মসজিদের ইমাম দু’জনে মিলে। প্রথমে তারা সিদ্ধান্ত নেন ভাড়াটে খুনির মাধ্যমে বা অন্য কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে আজহারুলকে খুন করবে।

পরবর্তীতে আসমা আক্তার মসজিদের ইমামকে পরামর্শ দেন আজহারুলকে হত্যার ঘটনাটি তার রুমে যাতে করা হয়। পরে কোরবানির পশু জবাইয়ের ছুরি দিয়ে আজহারুলকে হত্যা করেন ইমাম।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলা র‌্যাব সদর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন আরও বলেন, গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুর রহমান ও ভুক্তভোগী স্ত্রী আসমা আক্তার জানান, হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও তাদের মধ্যে আলাপ-আলোচনার জন্য মসজিদের ইমাম তার মক্তবের এক ছাত্রের নামে একটি সিমকার্ড ও একটি মোবাইল ফোন আসমা আক্তারকে কিনে দেন। সেটি আসমা আক্তারকে দেওয়া হয় গোপনীয়তা রক্ষার জন্য। এর মাধ্যমে তারা নিয়মিত শলা পরামর্শ করতে কিভাবে আজহারুলকে হত্যা করা যায়।

খন্দকার আল মঈন বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে তারা আরও জানায়, এ বছর রমজান মাসের ৭ দিন আগে আজহারুলকে তারা হত্যার পরিকল্পনা করে। এ সময় আজহারুল কলেরা রোগে আক্রান্ত হওয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। এতে তাদের হত্যার পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। ওই সময় হাসপাতলে ভর্তি ছিলেন আজহারুল। এরপর আজহারুল সুস্থ হলে ঈদের আগের দিন তারা টাঙ্গাইলের কালিহাতী গ্রামের বাড়ি চলে যান। সেখানেও নিয়মিত আসমা আক্তারের সঙ্গে মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুর রহমানের যোগাযোগ চলছিল।

পরবর্তীতে আসমা আক্তার ইমামের সঙ্গে মোবাইলের শলা পরামর্শ করে গত ১৮ মে অনেকটা প্ররোচনা দিয়ে আজহারুলকে ঢাকা পাঠান। পরদিন ১৯ মে ইমাম আজহারুলকে ফোন করে মসজিদে আসার জন্য বলেন। আজহারুল কাজ কর্ম শেষে গার্মেন্টস থেকে সরাসরি ইমামের সঙ্গে দেখা করতে এশার নামাজের সময় মসজিদে যান। এশার নামাজের পরে মসজিদের ইমাম আজহারুলকে অনুরোধ করে বলেন, ‘তুমি আমার কক্ষে বিশ্রাম নাও নামাজ শেষ করে আমি আসছি’। তখন আজহারুল ইমামের কক্ষে গিয়ে বিশ্রাম নেন। পরে কক্ষে ইমাম এলে দু’জনের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী ঠিক ওই সময় ইমাম আব্দুর রহমান কোরবানির পশু জবাইয়ের ছুরি দিয়ে আজহারুলকে আঘাত করতে গেলে ভুক্তভোগী টের পেয়ে যান। এতে তাদের দু’জনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। আজহারুল ইমামের কক্ষ থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে সিঁড়িতে পড়ে যান, ইমাম ঠিক তখনই আজহারুলের গলার ডান দিকে ওই ছুরি দিয়ে আঘাত করেন।

এ সময় ইমাম আজহারুলের গলায় আরও কয়েকটি আঘাত করেন। পরে ইমাম আজহারের মরদেহ তার কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে মরদেহটি ৬ খণ্ডে খণ্ডিত করে। এরপর খণ্ড করা মরদেহ নিয়ে ব্যাগে ভরে দক্ষিণখানের সরদার বাড়ি জামে মসজিদের সেফটি ট্যাংকে ফেলে দেন এবং ওই ট্যাংকির মুখটি সিমেন্টের বস্তা দিয়ে ঢেকে রাখেন। ঘটনার পর থেকে মসজিদের ওই কক্ষে ইমাম না থেকে পাশেই ঢাকা মাদরাসায় গিয়ে অবস্থান নেন।

খন্দকার আল মঈন বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে মামলার দুই নম্বর আসামি আসমা আক্তারের বিষয়ে জানা যায়, আজহারুল ছিলেন আসমা আক্তারের তৃতীয় স্বামী। আসমা আক্তার আরও দু’টি বিয়ে করেছিলেন। আসমা আক্তারের দ্বিতীয় স্বামী ছিলেন ভুক্তভোগী আজহারুলের বড় ভাই। তাদের মধ্যে ২০১৫ সালে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছিল। গোপনে আসমা আক্তারের সঙ্গে আজহারুলের পরকীয়া সম্পর্ক হয়। পরে সম্পর্কের জেরে তার বড় ভাইয়ের সঙ্গে আসমা আক্তারের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। পরে আসমা আক্তার পালিয়ে আজহারুলেরকে বিয়ে করেন।

তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আসমা আক্তার হত্যার বিষয়ে সব ধরনের পরিকল্পনা ও প্ররোচনা ইমামকে দিয়েছেন। হত্যার পরে আসমা আকতার ইমামকে বিয়ে করবে বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ইমামের বাড়ি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়। তার স্ত্রী ও এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার সকালে নিহতের মরদেহ উদ্ধারের পর বিকালে আব্দুল্লাহপুর থেকে আসমাকে গ্রেফতার করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে র‍্যাব। এরপরই আসমা র‍্যাবের কাছে পরকীয়া সম্পর্ক ও হত্যার পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেন। পরবর্তীতে আসমা আক্তারকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

এদিকে এদিন আজহারুল হত্যা মামলায় তার স্ত্রী আসমা আক্তার ও মসজিদের ইমাম আব্দুর রহমানের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দক্ষিণখান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অনুজ কুমার সরকার। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম বেগম নিভানা খায়ের জেসী তাদের ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে মঙ্গলবার রাজধানীর দক্ষিণখান সরদারবাড়ি জামে মসজিদের সেপটিক ট্যাংক থেকে আজহারুল ইসলাম (৪০) নামে এক গার্মেন্টকর্মীর ৭ টুকরো লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় র‌্যাব মসজিদের ইমাম আব্দুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, বাসায় আসা-যাওয়ার সূত্র ধরে আজহারুলের স্ত্রীর সঙ্গে আব্দুর রহমানের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতে ২০ মে মসজিদে ইমামের কক্ষে গিয়ে খুন হন তিনি। পরে তার লাশ গুম করতে সাত টুকরা করে সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে রাখা হয়।

আব্দুর রহমানকে গ্রেফতারের বিষয়ে মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে র‌্যাব।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আব্দুল মোত্তাকীম জানান, সোমবার রাতে র‌্যাবের গোয়েন্দা দল খবর পায় সরদারবাড়ি জামে মসজিদের সিঁড়িতে রক্তের দাগ এবং সেপটিক ট্যাংক থেকে তীব্র গন্ধ ছড়াচ্ছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-১ ছায়া তদন্ত শুরু করে। তখন জানা যায়, আজহারুল নিখোঁজ রয়েছেন। এ ঘটনার তদন্তের একপর্যায়ে দক্ষিণখানের মাদ্রাসাতুর রহমান আল আরাবিয়া থেকে আব্দুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ৩টি চাকু ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

Check Also

কিশোরীকে মদ খাইয়ে মোবাইলে ক্যামেরা চালু করে যৌন নির্যাতন!

আবারও ভাইরাল হলো ভিডিও। এক কিশোরীকে মদ খাইয়ে অর্ধনগ্ন করার অভিযোগ উঠেছে পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামীর …