Home / সারাদেশ / কনডেম সেলে ঘুম আসে না মিন্নির, চেনাই এখন দুষ্কর

কনডেম সেলে ঘুম আসে না মিন্নির, চেনাই এখন দুষ্কর

এক সময় রাজার হালে থাকলেও এখন কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে বন্দি জীবন কাটছে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির। বাবার আদরের মেয়ে হওয়ায় কখনো তাকে অভাব ছুঁতে পারেনি। ছিল না কোনো শূন্যতাও।

অথচ সেই মিন্নি এখন মা-বাবার কাছ থেকে অনেক দূরে। থাকতে হচ্ছে একা। কারাগারের কনডেম সেলে মেয়ের ঘুম আসছে না বলে জানিয়েছেন মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর। এমনকি তাকে চেনাও নাকি অনেক দুষ্কর হয়ে পড়েছে।

বহুল আলোচিত বরগুনার রিফাত শরীফ হ'ত্যাকাণ্ডের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে শুক্রবার এক আলাপচারিতায় এসব কথা বলেন মিন্নির বাবা।

মিন্নির শারীরিক অবস্থা নিয়ে মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেন, মিন্নির দাঁতে ব্যথা ও মাথা ব্যথাসহ অন্যান্য অনেক উপসর্গ রয়েছে। মিন্নি খেতে পারে না, ঘুমাতে পারে না। সব সময় অসুস্থ থাকে। তাই খুব দু'র্বল হয়ে পড়েছে। কারাগারের পানি পর্যন্ত তার সঙ্গে অ্যাডজাস্ট হয় না। মিন্নির চিকিৎসার জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরে আবেদন করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। এ আবেদন অনুমোদিত হলে মিন্নিকে বাইরের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার কারণে মিন্নিকে চেনা এখন দুষ্কর। মিন্নি কোনোদিন কোনো অভাব দেখেনি। তার খাওয়ার অভাব ছিল না, পরার অভাব ছিল না, কোনো শূন্যতাও ছিল না। মিন্নিকে আমি কলেজে নিয়ে যেতাম আবার নিয়ে আসতাম। কেউ বলতে পারবে না- কোনোদিন মিন্নি একা বাইরে বের হয়েছে। মিন্নি আজ মা-বাবা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন থেকে দূরে। তাকে কারাগারের সেলে আবদ্ধ থাকতে হয়।

মিন্নির অসুস্থতা ও চিকিৎসার বিষয়ে জানতে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার হালিমা খাতুনের ব্যবহৃত সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। তাই এ বিষয়ে তার মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

বহুল আলোচিত বরগুনার রিফাত শরীফ হ'ত্যাকাণ্ডের দুই বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০১৯ সালের এ দিনে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাতকে কুপিয়ে হ'ত্যা করে তারই স্কুলজীবনের বন্ধু সাব্বির আহম্মেদ নয়ন ওরফে নয়ন বন্ড ও তার সঙ্গীরা।

আলোচিত এ হ'ত্যা মামলায় নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয় আদালত। অপরদিকে হ'ত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেয়ায় অপ্রাপ্তবয়স্ক ছয় আসামিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া অপ্রাপ্তবয়স্ক চারজনকে পাঁচ বছর এবং একজনকে তিনি বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালত এ রায় দেয়। রায় ঘোষণার পর থেকেই কারাগারে রয়েছেন মিন্নি।

রায়ের পর গত বছরের ২৯ অক্টোবর বরগুনা জেলা কারাগার থেকে মিন্নিকে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে এ কারাগারের কনডেম সেলে রয়েছেন তিনি। করোনার কারণে বন্দিদের সঙ্গে স্বজনদের সাক্ষাৎ বন্ধ রয়েছে। কিন্তু প্রতি সপ্তাহে একবার স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান মিন্নি।

Check Also

গণপরিবহন চালুর বিষয়ে আসছে নতুন সিদ্ধান্ত

বিদ্যমান করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে চলমান বিধিনিষেধ আরো বাড়ানো হতে পারে। …