Home / সারাদেশ / উৎকট গন্ধে প্রতিবেশীরা ডাকলো পুলিশ, মিলল তরুণীর বীভৎস পচাগলা লাশ

উৎকট গন্ধে প্রতিবেশীরা ডাকলো পুলিশ, মিলল তরুণীর বীভৎস পচাগলা লাশ

মাস তিনেক আগে লামিয়া আক্তার (১৯) আর হৃদয় ফকির প্রেমের সম্পর্কে বিয়ে করেন। এরপর তারা রাজধানীর পূর্ব রামপুরা এলাকার একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিলেন। বুধবার সেই ফ্ল্যাট থেকে বের হচ্ছিল উৎকট গন্ধ। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে দেখতে পায় বন্ধ কক্ষের ভেতরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছে ওই তরুণীর মরদেহ। তাতে পচনও ধরে গেছে অনেকটা।
তখনই বোঝা যায়, স্বামী হৃদয় ফকির পলাতক রয়েছেন। তিনি একটি গ্যারেজে গাড়ি পেইন্টিংয়ের কাজ করেন। লামিয়ার গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগরের খোরখোলা গ্রামে। বাবার নাম শেখ মোমেদ।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, মরদেহে পচন ধরায় প্রাথমিকভাবে বোঝা যায়নি লামিয়া আত্মহ'ত্যা করেছেন, না-কি হ'ত্যার পর তাকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। হৃদয়কে পাওয়া না গেলেও তার মোবাইল ফোনটি পড়েছিল বিছানার উপরই।

রামপুরা থানার এসআই ইয়াকুব আলী জানান, ফ্ল্যাটটি তালাবদ্ধ ছিল। দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে ওই তরুণীকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। বীভৎস ওই দেহ পচন ধরায় ধারণা করা হচ্ছে, তিন থেকে চার দিন আগে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে এটি হ'ত্যা, না-কি আত্মহ'ত্যা, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, বাসাটিতে স্বামী-স্ত্রী থাকতেন। তারা দুইজনে একটি মোবাইল ব্যবহার করতেন। মরদেহের পাশেই সেটি পড়ে ছিল। খবর পেয়ে স্বজনরা ওই ফ্ল্যাটে এসেছিলেন। তবে পলাতক হৃদয়কে পাওয়া গেলে রহস্য উদঘাটন সহজ হবে। আমরা সেই চেষ্টাই করছি।

লামিয়ার বড় বোন মাকসুদা আক্তার বলেন, লামিয়া নিজের ইচ্ছেতে কয়েক মাস আগে হৃদয়কে বিয়ে করেছিল। তবে তাদের সঙ্গে আমার যোগাযোগ ছিল। আমি চিকিৎসা নিতে গ্রাম থেকে ঢাকায় এসেছিলাম। তখন তাদের মোবাইলে ফোন দিলেও তারা ধরেনি। বাসায় গেলেও সেটি তালাবদ্ধ পাই। পরে অন্য এক স্বজনের বাসায় উঠেন।

বুধবার মাকসুদা খবর পান, বাসার ভেতরেই তার বোনের মরদেহ ঝুলছিল! তিনি তাকে হ'ত্যার অভিযোগ এনেছেন। হৃদয় তার বোনকে হ'ত্যা করে ঘটনা ভিন্ন দিকে নিতে ফ্যানের সঙ্গে মরদেহ ঝুলিয়ে পালিয়েছেন বলে অভিযোগ। তাকে গ্রেফতার করলেই সব রহস্য বের হবে। তিনি পলাতক হৃদয়ের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ারও প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান।

Check Also

সাইদুরের মাথাটার কিছুই ছিল না, হেলমেটটা ছিল অক্ষত

স্ত্রী রুনু, সঙ্গে দেড় বছরের সন্তান রেহান ও ৯ বছরের রোহান—সবাইকে বেশ অনিশ্চয়তার মুখে ফেলে …