Home / সারাদেশ / উঠানভর্তি মানুষ, নেই শুধু সাবরিনা

উঠানভর্তি মানুষ, নেই শুধু সাবরিনা

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার বজরা ইউনিয়নের শিলমুদ গ্রামের জমদ্দার ভুঁইয়া বাড়ির উঠানে শত শত নারী-পু'রুষ। শুধু নেই আদরের সাবরিনা আক্তার মিতু (২২)।রোববার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুরে বাড়িতে প্রবেশ করতেই ঘর থেকে কান্নার আওয়াজ ভেসে আসছিল।

‘আমার মারে আইনা দাও’ এমন বিলাপ করতে করতে কিছুক্ষণ চুপ থাকেন সাবরিনার মা শাহনাজ বেগম। আবারও কান্নার রোল।এবার বলতে থাকেন, আমার মা সাংবাদিক হইবো, আমার মা পরীক্ষার পরে বাড়ি আসবো। কে নিলো আমার মারে। আমি তো তারে আল্লাহর কাছ থেকে খুঁজে নিছিলাম। কোন দোষে আল্লাহ তারে দুনিয়া থেকে উঠায়া নিলো।

দুপুর গড়িয়ে পশ্চিম আকাশে বিকেলের সূর্য। এরপরও একে একে গ্রামের নারী-পু'রুষ আসছে সাবরিনার বাড়িতে। সবার মুখে একই কথা ‘মেয়েটি অনেক ভালো ছিল’।মিতুর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি এখন তার ছোট বোন সানজিদা আক্তার মিমের (১৬) কাছে। কিছুক্ষণ পর পর বেজে উঠছে ওই মোবাইল। অন্য প্রান্তে মিতুর কোনো না কোনো সহপাঠী বা শুভাকাঙ্ক্ষীর কান্নার আওয়াজ। ছোট বোন মিথিলা আক্তার সাথিও (১৩) দুদিন ধরে অঝোরে কেঁদেই চলছে।

মিতুর বাবা মর্তুজা ভূঁইয়া বলেন, খবর পেয়ে ঢাকা থেকে রওয়ানা দিয়ে শনিবার সন্ধ্যা ৫টার দিকে এসে সাবরিনার নিথর দেহ দেখি। পড়াশোনার আগ্রহের কারণে মেয়েকে গ্রামে রাখিনি। কষ্ট হলেও ঢাকায় রেখেই পড়ালেখা করাচ্ছিলাম।স্থানীয়রা জানান, ৭ ডিসেম্বর পরিবারের সঙ্গে সোনাইমুড়ীর রামপুরে নানার বাড়িতে আসেন সাবরিনা। সোমবার পরীক্ষা থাকায় শনিবার দুপুরে ঢাকা যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন। দুর্ঘটনায় চলে যায় না ফেরার দেশে।

শনিবার রাত ৮টায় রামপুর নানার বাড়ির দরজায় প্রথম জানাজা ও রাত ৯টায় শিলমুদ গ্রামে দ্বিতীয় জানাজা শেষ পারিবারিক কবরস্থানে চির নিদ্রায় শায়িত হন এই মেধাবী ছাত্রী।সাবরিনা দু’র্ঘটনার স্থানে এখনো লেগে আছে র’ক্তের দাগ। ইটঘেরা ওই স্থান ঘিরে আছে উৎসুক মানুষের জটলা। সবার মুখেই নির্মম ঘটনার বলাবলি।রামপুরে সাবরিনা নানাবাড়িতেও শোকাহত পরিবেশ। খালা, খালাতো ভাইবোনদের কান্না যেন থামছেই না। গত ১১ দিন একসঙ্গে কাটানো নানান স্মৃতির বিবরণ দিয়ে কাঁদছেন নানাবাড়ির স্বজনরা।

মা–বাবার প্রথম সন্তান হিসেবে অতি আদরের ছিলেন সাবরিনা আক্তার। এসএসসি ও এইচএসসির পাঠ চুকিয়ে ভর্তি হন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে। শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী পৌরসভার রামপুরে নোয়াখালী-কুমিল্লা আঞ্চলিক সড়কের পূর্ব পাশ থেকে পশ্চিম পাশে পার হতে গিয়ে কুমিল্লার দিক থেকে উল্টো পথে আসা একটি ইটবাহী ট্রাক সজোরে ধাক্কা দেয় তাকে।

মাথায় আঘাত পেয়ে সড়কে ছিটকে পড়েন তিনি। মুহূর্তেই তার প্রাণোচ্ছল দেহটি নিথর-নিস্তেজ হয়ে যায়।নোয়াখালী পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শহীদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, সাবরিনাকে ধাক্কা দেওয়া ট্রাকচালক মো. সাহাব উদ্দিন শিপনকে (২২) শনিবার রাত পৌনে ৮টার দিকে উপজেলার কৈশল্যারবাগ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বি’রুদ্ধে সোনাইমুড়ী থানায় মামলা হয়েছে।

Check Also

দেড় বছরের সন্তানকে বাঁচাতে খালি হাতেই বাঘের সঙ্গে মায়ের লড়াই

ভারতের মধ্যপ্রদেশে বন থেকে হঠাৎই লোকালয়ে এসে দেড় বছরের এক শিশুকে আক্রমণ করে বসে বাঘ। …